আওয়ামী লীগ অনড় থাকলে ১৪ দলের সিদ্ধান্ত পরে: ইনু

জোট শরিকদের সাত আসন দেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ অনড় থাকলে ১৪ দলের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

১৪ দলীয় জোটের প্রভাবশালী এই নেতা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ১৪ দলীয় জোট প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে আসন বাড়ানোর আলোচনা করে দ্রুত প্রার্থী তালিকা প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু একাত্তরকে বলেন, আপাতত সাতটি সাতটি আসনে ছাড় দেয়া হয়েছে।

আর এই সিদ্ধান্ত আসার পরই দৃশ্যত ‘অসন্তুষ্টি’ প্রকাশ করে হাসানুল হক ইনু শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর প্রস্তাবটি প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে ১৪ দলের পক্ষ থেকে আসন নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে শরিক দলগুলোর নেতারা অসন্তুষ্ট হলেও ১৪ দলীয় জোটের জন্য আওয়ামী লীগ সাতটির বেশি আসন ছাড়তে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘১৪ দলীয় জোটকে সাতটি আসন ছাড় দেয়া হয়েছে। যা হওয়ার হয়েছে, এর বাইরে কিছু সম্ভব না।’

২০০৮ সাল থেকে গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে ভোটে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনেও জোটসঙ্গীদের ১৩ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ।

এবারের ভোটে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহিত করা হলেও হাসানুল হক ইনুর আপত্তি রয়েছে। জোট প্রার্থীদের আসনে কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান না তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িক আদর্শের ভিত্তিতে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১৪ দলীয় জোট। ওই বছরের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে ২৩ দফা ঘোষণা দিয়ে ১৪ দলীয় জোটের যাত্রা শুরু হয়।