২৮৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কিছু আসনে সমঝোতা: চুন্নু

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৮৩ আসনে জাতীয় পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এর বাইরে কিছু আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমাঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

রোববার রাজধানীর বনানীতে সংবাদ সম্মেলন করে জাপা মহাসচিব এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, তার দল ২৮৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

চুন্নু বলেন, কিছু কিছু আসনে তাদের দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা যেখানে নির্বাচন করবে সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।

কতটি আসনে সমঝোতা সে বিষয়ে একাধিকবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও চুন্নু এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, রাতের মধ্যেই সব জানতে পারবেন। কৌশলের কারণে আমরা সংখ্যাটি বলছি না।

গত কয়েকদিন ধরে আসন নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দফায় দফায় বৈঠক করেছে জাতীয় পার্টি। যদিও এসব বৈঠকের পর কোনো দলের নেতারাই মুখ খোলেননি।

রোববার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলন করে বলেন সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের আসন নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে কত আসনে সেই সমঝোতা সে বিষয়ে তিনিও কিছু বলেননি।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করা হয় মহাজোট। ওই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে মহাজোট।

এরপর ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট না করেই নির্বাচন করে জাতীয় পার্টি। ওই ভোটে জোট না থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছে, এমন ৩৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ।

এসব আসনেই জয় পায় দলটি। ভোটের পর সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। আবার সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও থাকেন দলটির কয়েকজন। দলীয় প্রধান এইচ এম এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।

আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে না থাকলেও ভোটে আসন ভাগাভাগি করে। গত সংসদ নির্বাচনের তাদেরকে দেওয়া হয় ২৬টি আসন, এর মধ্যে তারা জয় পায় ২৩টিতে। এই সংসদেও বিরোধীদলের আসনে রয়েছে জাতীয় পার্টি।

সংবাদ সম্মেলনে চুন্নু বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয় সেজন্য কাজ করে যাব। আমরা আশাবাদী মানুষ নির্বাচনে অংশ নেবে। মানুষ অনেক সচতেন। সকল অপচেষ্টা দূর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েমে কাজ করে যাব।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে কোনো ধরনের চাপ ছিলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, নির্বাচন নিয়ে চাপ থাকলেতো আরও অনেক দল আছে তারাও আসতো। কোনো চাপ ছিলো না। আমরা স্বাধীনভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ একদিনে হবে না বা তিন-চার ঘণ্টায় হবে না। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চলমান। সব দলের সাথে আলোচনা চলছে আরও চলবে। যাতে নির্বাচন অর্থবহ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, ২৮৩ আসনে অন্য কোনো দলের কী প্রার্থী আছে, স্বতন্ত্র আছে কি নেই এসব বিবেচনায় নেই।