দেশের সমৃদ্ধিতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই: শেখ হাসিনা

বরিশালে লাখো মানুষের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যায় তখনই বিএনপি জামায়াত আগুন সন্ত্রাস শুরু করে। তাই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।   

শুক্রবার বিকেলে বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এসময় সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহেনা।

শেখ হাসিনা বললেন, আওয়ামী লীগের হাতেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, বিদ্যুতকেন্দ্র, আধুনিক নদী বন্দর আর বিমান বন্দরের সুবিধা পেয়েছে মানুষ। আগামীতে শিল্প-কলকারনা তৈরির মধ্য দিয়ে আরও সমৃদ্ধ হবে বরিশাল।  

বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। নিজেদের ভাগ্য গড়তেই তারা ক্ষমতায় যেতে চায়।

সাত তারিখের ভোটে নৌকার প্রতি সমর্থন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতো বাধাই আসুক সোনার বাংলা গড়াই আমার লক্ষ্য। নৌকায় ভোট দিলেই কেবল দেশের উন্নতি হয়, মনে করিয়ে দেন শেখ হানিনা। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন জনগণের জন্য উন্নয়ন করি, তখন ওই বিএনপি-জামায়াত করে অগ্নিসন্ত্রাস। রেললাইনের ফিস প্লেট ফেলে দিয়ে, বগি ফেলে দিয়ে মানুষ হত্যার ফাঁদ পাতে। রেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। মা-সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে- এই অবস্থায় আগুনে পুড়ে কাঠ হয়ে গেছে। এই দৃশ্য পুরো বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আসে আগুন, গাড়িতে আগুন, ঠিক ২০০১ সালে শুরু করেছিল। এরপর ১৩-১৪ একই ঘটনা ঘটায়। এখন আবার অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। আমি ধিক্কার জানাই বিএনপি-জামায়াতকে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমি বরিশালে উপস্থিত হয়েছি। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন, সেই লক্ষে এখানে উপস্থিত হয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রা শুরু করেছিলেন। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন মাথাপিছু আয় ছিল ৯১ ডলার। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছরের মধ্যে তা ২৭৭ ডলারে উন্নীত করেন। তিনি অসহায়দের জন্য অকাতরে সব বিলিয়ে দেন।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, বরিশালের সন্তান অভিনেতা মীর সাব্বির, অভিনেত্রী তারিন জাহান প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস জনসভা সঞ্চালনা করেন।