সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিলো তার পেছনে বিএনপির নেতা আব্দুল মঈন খানের বাবা আব্দুল মোমেন খানের ষড়যন্ত্র ছিলো বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এসব কথা বলেন তিনি।
হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে বিএনপি নেতা আব্দুল মঈন খান অনেক কথা বলেন। মঈন খানের বাবা আব্দুল মোমেন খান। ১৯৭৪ সালে তিনি খাদ্য সচিব ছিলেন। আর সেসময় ষড়যন্ত্র করে মার্কিন খাদ্যবাহী জাহাজ ফেরত পাঠিয়েছিলেন।
‘ওইটা একটা ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলো। যার ফলেই দেখে সে সময় খাদ্য সংকট দেখা দেয়,’ বলেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানের বাবা মোমেন খান ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর যোগ দেন রাজনীতিতে।
শুরুতে মোমেন খান লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হলেও পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৭৮-৭৯ সালে পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী ছিলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, খাদ্য সংকট সৃষ্টিতে মোমেন খানের ষড়যন্ত্রের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পরই তাকে উপদেষ্টা পদমর্যাদা দেন এবং মন্ত্রী বানান।
বর্তমানে বিএনপি নেতারা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যে সব কথা বলে, তা শুনলে জিয়াউর রহমানও কবরে শুয়ে লজ্জা পেয়ে যেতেন বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর জন্য যেভাবে দাবি করে, জিয়াও সেভাবে কখনো দাবি করেনি। আর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ছত্রছায়ায় পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করেছে।
‘জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের চর হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো। তার প্রমাণ আছে। একজন খলনায়ককে নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করছে বিএনপি,’ যোগ করেন তিনি।
আর মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার সন্তানরা পাকিস্তানের ক্যান্টনমেন্টে আরাম আয়েশে ছিলো বলেও মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ।