পাহাড়র সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে পাশের দেশের সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুর পাড়ে ওয়াইএনটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে তিন ব্যাংকে ডাকাতি, অর্থ ও অস্ত্র লুট, অপহরণ এবং গোলাগুলির ঘটনায় কেএনএফ জড়িত বলে বলা হচ্ছে।
‘বম পার্টি’ নামে পরিচিত এই সশস্ত্র সংগঠন বিদেশি সহযোগিতা নিয়ে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা।
হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজারকে মুক্ত করা হয়েছে।
ওই সংগঠনের সঙ্গে আশেপাশের সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ আছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে যারা ঘটিয়েছিলো, তাদের অস্ত্রশস্ত্রও তাদের (কেএনএফ) কাছে এসেছে বলে জানা গেছে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তাদেরকে নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
গত ২ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে কেএনএফ রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকে হামলা চালায়। টাকার পাশাপাশি অস্ত্র ও গুলি লুট করে তারা।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দীনকে রামু উপজেলা পরিষদ এলাকায় মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ পোর সময় অপহরণ করে।
পরদিন ভরদুপুরে থানচি উপজেলা সদরে কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে হামলা চালিয়ে টাকা লুট করে সশস্ত্র গোষ্ঠী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নেজাম উদ্দীনকে উদ্ধার করে র্যাব। এ খবর আসার পরপরই থানচিতে পুলিশ ও সশস্ত্র লোকদের মধ্যে গোলাগুলি হয়।
‘বিএনপি রাজনৈতিক দৈত্যের দল’
সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে বিএনপিরও সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, হরর সিনেমা যখন দেখা হয়, তখন দেখা যায় যে, দৈত্য মানুষ পোড়ায়, আবার সেই পোড়া মানুষের মাংস খায়। বিএনপি যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, মানুষের ওপর হামলা পরিচালনা করেছে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তারা তো দৈত্য। হরর মুভিতে দেখা এসব বিএনপির বেলায়ও প্রযোজ্য। হরর মূভির মত বিএনপি একটি রাজনৈতিক দৈত্যের দল।
হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য তারেক জিয়াই যথেষ্ট, আর কাউকে লাগবে না। যতদিন তারেক জিয়া তাদের নেতা থাকবে বিএনপির ততদিন কোনো সম্ভাবনা নাই।
বাজার অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছিল মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের এই ডাকে দেশের কেউ সাড়া দেইনি, এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও সাড়া দেইনি। বাজার আমরা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। অনেক পণ্যের দামও কমেছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং মজুদদার চেষ্টা করেছিল বাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য। এবং সেটির সাথে যুক্ত হয়েছিল বিএনপির ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক। ঈদ সামনে রেখেও সবসময় বাংলাদেশে অসাধু সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়। সেটিকেও কঠোরহস্তে দমন করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।
হাছান মাহমুদ এসময় গণমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে গণমাধ্যমে সেটি যেমন প্রচারিত হয়, কোনো পণ্যের দাম কমলে সেটাও প্রচার করা দরকার।