বর্তমান সরকার সিন্দাবাদের দৈত্য হয়ে জনগণের কাঁধে চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
শনিবার রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর এর মত বিনিময় জি এম কাদের এ কথা বলেন।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতি আজ চরম সংকটময় সময় পার করছে। দিন যতই যাচ্ছে সংকটের গভীরতা ততই বাড়ছে। আগে আমরা যেটাকে সংকট বলেছি, এখন মনে হচ্ছে সেটা কোন সংকটই ছিলো না। দেশের বেশির ভাগ মানুষ আয় দিয়ে সংসার চালাতে পারছে না। জিনিস পত্রের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। টাকার অবমূল্যায়নে ডলারের দাম বেড়ে গেছে, মূল্যস্ফিতি হচ্ছে। ডলার সংকটের কারনে সরকার আমদানি সংকোচন করেছে। এতে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ কাজ পাচ্ছে না, খেতে পাচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় একটি শ্রেণি ইউরোপের স্টাইলে জীবন যাপন করছে। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিশাল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে তারা। বিশ্ব সংস্থাগুলোর জরিপে দেশে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ছে। একটি শ্রেণি আধাপেট খেয়ে বেঁচে আছে। অনেকে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারছে না। এই বৈষম্যের জন্য মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
সরকার শক্তি দিয়ে দেশ দখল করেছে মন্তব্য করে জাপা চেয়ারম্যঅন আরো বলেন, এখন জনগণের কথা বলার অধিকার নেই, কথা বলতে গেলেই নানান ধরনের সমস্যা। জনগণের কথা শোনারও যেনো দরকার নেই। বর্তমান সরকার শক্তি-সামর্থ দিয়ে এই দেশটাকে দখল করে ফেলেছে। এখন জনগণের কথার কোন দাম নেই, এখন তাদের কথায় জনগনকে চলতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার সিন্দাবাদের দৈত্য হয়ে জনগণের কাঁধে চেপে বসেছে। জনগনের কথায় সে চলে না, তার কথায় জনগনকে চলতে বাধ্য করছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সরকারি দল করে তারা সব ধরনের নিয়ম নীতির বাইরে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে তারা। একটা শক্তিশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক দল বলে মনে হয় না। বৈষম্য সৃষ্টির জন্য কোন পুরস্কার থাকলে বাংলাদেশ নোবেল প্রাইজ পেতো। চাকরি, ব্যাবসা থেকে শুরু করে সব কিছুতেই প্রথম প্রশ্ন আপনি সরকারি দলের সদস্য কি না। দ্বিতীয় প্রশ্ন আপনার পরিবারের কেউ সরকারি দলের বাইরে অন্যকোন দল করে কি না। যারা আওয়ামী লীগের বাইরে তারা অবাঞ্ছিত। অবস্থা এমন যেনো থাকলে দাস হিসেবে থাকেন, না থাকলে যান। কথা বলার অধিকার নেই কারো।
জিএম কাদের বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা সিন্দাবাদের দৈত্য হয়ে মানুষের কাঁধে বসে আছে। সামনের দিকে রাজনীতি আরো কঠিন হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা মানুষের পাশে থাকবো নাকি সুযোগ-সুবিধার পক্ষে থাকবো।
ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুল হক সামছুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সুলতান আহমেদ সেলিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের। এছাড়া মহানগর উত্তরের ২৬ থানার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।