গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ক্ষমার অযোগ্য: জি এম কাদের

তিস্তা সেচ প্রকল্প উন্নয়নের নামে বন বিভাগের চার লাখ গাছ কাটার সিদ্ধান্তে উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

রোববার এক বিবৃতিতে গাছ কাটা বন্ধ রেখে, নতুন করে বনায়নের দাবিও জানান জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশ এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ও ক্ষমার অযোগ্য।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প সংস্কার কাজে সাড়ে ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচনালার দুই পাশের সড়কের ধারে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির চার লাখের বেশি গাছ কাটা হচ্ছে।

নীলফামারী, দিনাজপুর ও রংপুর বিভাগ মিলিয়ে এই গাছ কাটা হচ্ছে। এর মধ্যে নীলফামারী অংশে থাকা গাছগুলো ৪০০টি লটে ভাগ করে কাটা হচ্ছে। অন্য দুই জেলায়ও একই প্রক্রিয়ায় গাছ কাটা হচ্ছে।

বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেন, ইতোমধ্যেই দিনাজপুরে খালের নীলফামারী সদরের চান্দের হাট বাহালীপাড়া এলাকায় অন্তত ২০টি গাছ কাটা হয়েছে। ওই এলাকায় এর আগেও গাছ কাটা হলেও নতুন করে বনায়ন করা হয়নি। এর বিরূপ প্রভাবে তিস্তার অনেকাংশ মরুভূমি হতে চলেছে। আবার নীলফামারী সদর ও ডিমলা উপজেলার প্রকল্প এলাকায় ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ গাছ কাটা হয়েছে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যেই অন্তর্ভূক্ত। তথাপি প্রকল্প বাস্তবায়নে এতো বিপুল সংখ্যক বৃক্ষ নিধন কেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো এটা বোঝা মুশকিল। সমালোচকদের মতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অতিরিক্ত গাছ কেটে বিক্রির মাধ্যমে আরো অধিক মুনাফা অর্জনই এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্য কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেন, গাছের অভাবে দেশের প্রকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। দেশ ও পরিবেশের বিরুদ্ধে কাদের স্বার্থে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন তিনি।