বন্ধুত্ব ভারতের কোনো দলের সাথে নয়, সরকারের সাথে: ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ভারত সরকারের সাথে কোনো দলের সাথে নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ভারতের নির্বাচনে কে এলো কে গেলো সেটা বাংলাদেশ দেখবে না। বাংলাদেশর বন্ধুত্ব ভারত সরকারের সাথে। ভারতের বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সাথে নয়।

বুধবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচনে ৩৩ থেকে ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিএনপির করা মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শামসুল হুদা, রকিবুল হুদা, এসপি কহিনুর কার সৃষ্টি? মঈন ইউ আহমেদকে আটজনকে ডিঙিয়ে সেনাপ্রধান কে করেছে? মির্জা ফখরুল সাহেবের এতোটুকু লজ্জা করে না, নিজেরা যা করেছে তা এখন আওয়ামী লীগের উপর দায় চাপাচ্ছে।

এ সময় সেতু মন্ত্রী আরো বলেন, দুদক স্বাধীন। মন্ত্রীরাও কোনো দুর্নীতি করলে দুদক তদন্ত ও মামলা করতে পারে। ফখরুল বলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে। কে আন্দোলন করবে? দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বিএনপি! দুর্নীতিবাজ দল-বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে এটা বছরের সেরা জোক (কৌতুক)।

নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে ‘অপমানিত করার দুরভিসন্ধি’ সরকারের নেই বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের ভাষ্য ‘ড. ইউনূস ন্যায়বিচার না পেলে বাংলাদেশে আইনের শাসন ব্যাহত হবে, বিদেশি বিনিয়োগও সে ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হবে’- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ড. ইউনূসের আইন অনুযায়ী বিচার হবে। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হবে না।

তিনি বলেন, এ দেশের সহস্র জননীর কান্নার আওয়াজ এখনও শোনা যায়। যারা ঋণ নিয়ে নির্যাতিত হয়েছে সেটা ভুলে গেলে চলবে কী করে? মামলায় তার (ড. ইউনূস) প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। তার যেটা প্রাপ্য, সুষ্ঠু বিচারই হবে। কোনভাবেই অপমানিত করার কোনো দুরভিসন্ধি আমাদের নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই বিশ্বে আমেরিকা একটা বড় শক্তি। তাদের সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক আছে, এই সম্পর্ক তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আমরাও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ক্ষোভ-বেদনা থাকার পরও বজায় রাখতে চাই। সম্পর্ক নষ্ট করতে চাই না। তাদের কথা তাদের আপন মানুষ নেতানিয়াহু মানে না। কতদিন হয়ে গেলো, সে বলে হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ করবে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ অন্যরা।