নির্বাচন প্রশ্নে উপদেষ্টাদের অস্বস্তি জন আকাঙ্খাবিরোধী: তারেক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কতো দিন থাকবে, নির্বাচন কবে হবে, সংস্কার পরিকল্পনার সময় কতো দিন হবে এসব জানার অধিকার জনগণের আছে। কিন্তু এসব কথা শুনে উপদেষ্টাদের মুখে অস্বস্তি দেখা দিলে তা হবে জনগণের আকাঙ্খাবিরোধী। 

তার আশা, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করে জনগণকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই দাবি করে সংস্কার আগে নাকি বাজার নিয়ন্ত্রণ আগে সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।  

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউশনে বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

এসময় তারেক রহমান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই। পেটে খাবার না জুটলে মানুষ সংস্কার দিয়ে মানুষ কী করবে!

এসময় সংস্কার করতে কতো দিন লাগবে সেটা জনগণকে জানাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

তারেকের আশা, সব সমস্যা কাটিয়ে বাংলাদেশ অতিদ্রুতই নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে। জনগণ শক্তিশালী না থাকলে জাতীয় ঐক্যও শক্তিশালী হয় মন্তব্য করে সবাইকে এক থাকার আহবান জানান তিনি।

বিএনপির অন্যতম এই নেতা বলেন, বিগত পালিয়ে যাওয়া সরকার ১৬ বছরে দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়েছিলো। হরণ করা হয়েছিল ভোটের অধিকার। তবে আগামী প্রতিটি বছর হবে বিজয়ের।

রাষ্ট্র  ও সরকারকে স্বৈরাচার হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করতে হলে গণতান্ত্রিক চর্চা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি ৩১ দফায় নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সব সংস্কার দিয়েছে। তাই সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় অতি দ্রুত নির্বাচন দেওয়াই হলো সরকারে মূল কাজ।

প্রতি মুহূর্তে তারেক রহমানের সশরীরে হাজির থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা, পতাকা ছিলো আশা আকাঙ্খার। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অল্প কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই আকাঙ্খা ভেস্তে গেলো। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় বসে সেই আকাঙ্খা ধ্বংস করেছে। 

তিনি বলেন, আজ অনেকে সেই কথা ভুলে গেছে। পতিত দোসর শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিব সব কিছু ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংস্কার সবাই চাই। প্রথম সংস্কার শুরু করেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতি শুরু করেছিলেন। সংস্কারের মধ্য দিয়ে কৃষিতে বিপ্লব করেছিলো বিএনপি। কিন্তু বিএনপিকে যখন সংস্কারের বিষয়ে শিক্ষা দিতে আসেন, তখন দুঃখ হয়। 

৩১ দফায় সম্পূর্ণ রূপে সংস্কার দেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো সংস্কার দরকার পড়ে না। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও সংস্কার দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষ চায় তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরে আসুক।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ বলেন, কেউ কেউ বলেন ৫৩ বছর কোনো সংস্কার করা হয়নি। আপনাদের অনেকেই গুম হয়েছিলো। তখন তো কথা বলেন নাই। এই রাজনীতিবিদরাই আপনাদের জন্য মাঠে নেমেছিলো। রাজনীতি না থাকলে দেশ থাকবে না। কাজেই রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করবেন না। দেশের মালিক জনগণ। এই দেশ অন্য কারো হবে না। তাই বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা করবেন না। জনগণের হাতে ক্ষমতা যতো দ্রুত দেবেন, ততো দ্রুত দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র কমে যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতার বড় কবর। ৪৭ এ পূর্ণ বিজয় ছিলো না। ৭১ এ পুরোপুরি স্বাধীন হলে একটি দল কুক্ষিগত করে রেখেছিলো। কিন্তু যে জাতি স্বাধীনতার চিন্তা করে, তাকে দমিয়ে রাখা যায় না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে পারি নাই, ২০২৪ এ এসে নতুন রাজনীতি পথ তৈরি হয়েছে। এটাকে যদি রক্ষা করতে না পারি তাহলে আবার আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। 

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এতো মানুষের রক্তের যে আকাঙ্খা তা বিএনপিকে পূরণ করতে হবে। আগামী দিনেও জনগণের ওপর বিএনপির দায় আছে। তাই বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, জোড় করে নয়। 

জনগণের ভালোবাসা ছাড়া সমর্থন পাওয়া যায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফলতা আসবেই। বর্তমান সরকার জোড় করে ক্ষমতা নেয় নাই। আমরাই তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। তবে কেউ কেউ আছেন, পদের মানে নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবেন। বিএনপি নেতাদের সম্পর্কে কথা বলার আগে চিন্তাভাবনা করবেন।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর মঈন খান বলেন, ১৬ বছরে স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিলো, গণতন্ত্রের কবর রচিত করা হয়েছিলো। ১৬ বছর পতিত সরকার প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিলো। যে যুদ্ধ আমরা করেছি পাঁচ আগস্ট ছাত্র-জনতা নতুন কিছু উপহার দিয়েছে। 

তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষ শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন তা-ই নয়, সবাই স্বাধীনতার দল বিএনপির দিকেও আছে। যেখানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। যতোদিন এটা না হবে, ততো দিন রাজপথে থাকবো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের মানুষের সামনে এখনও প্রশ্ন, কেন স্বাধীনতা সুফল প্রতিষ্ঠা করতে পারলাম না। জনগণ এই সরকার থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাবে, কিন্তু  সেট হয়নি। জনগণ আশা করেছিলো, দ্রুত নির্বাচন দিয়ে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু তা হয়নি।

আজকে যারা দেশ চালাচ্ছেন তারা নানা অজুহাতে নির্বাচনে দেরি করছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যতো দেরি হবে, ষড়যন্ত্র ততো বাড়বে। তাই অতি দ্রুত নির্বাচন দেন।