কিছু দলের নেতাদের সংবিধান প্রীতি বেড়েছে: হাসনাত

পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ৭২ এর সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, কিন্তু কিছু দলের নেতাদের সংবিধান প্রীতি বেড়েছে। একই সঙ্গে তারা চাঁদাবাজি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। 

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের দাবিতে পথসভা ও গণসংযোগে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় হাসনাত পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের সব পুলিশ এখনও বহাল। পুলিশের মামলা বাণিজ্য অব্যাহত আছে।

গণসংযোগ ও পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, মুখপাত্র আরেফীন মুহাম্মাদ হিজবুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন মাহমুদ, শওকত আলী, তামিম আহমেদ।

এদিকে একই দিন শহরের চাষাড়া শহীদ মিনারে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের দাবিতে পথসভা ও গণসংযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা।

ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব কলম লিখবে, আমরা সেই কলম আবার ভেঙে দেবো।

পথসভায় তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব মিডিয়া কথা বলবে, সেসব মিডিয়ার বিপক্ষে অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সুতরাং যেসব টকশোজীবী, মিডিয়া পাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী আওয়ামী লীগের মানবাধিকারের জন্য সরব হয়েছেন, আপনারাই এতো দিন এই ফ্যাসিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব কলম লিখবে, আমরা সেই কলম আবার ভেঙে দেবো।

হাসনাত বলেন, আপনারা যদি তরুণ প্রজন্মের কথা বুঝতে ব্যর্থ হন তাহলে আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছে পরবর্তী সময়ে যারাই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আসবে তাদের পরিণতিও একই হবে।

সরকারকে বুধবার পর্যন্ত সময় দিয়েছি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জানুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত আমাদের আল্টিমেটাম ছিল। আজকের গণসংযোগের পর আমরা সরকারকে বুধবার পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের কমিটমেন্ট দিয়েছে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র তৈরি করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে- এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি।

কারা বাধা দিচ্ছে সেগুলো আপনারা জনগণের সামনে প্রকাশ করুন।

উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা যাদের উপদেষ্টা বানিয়েছি, আমাদের প্রতিনিধি হয়ে যেসব উপদেষ্টা সরকারে গিয়েছে, আমরা আপনাদের বলতে চাই, আপনারা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনারা যদি কোনো কারণে মনে করেন প্রোক্লেমেশন দিতে এবং জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আপনাদের রাষ্ট্রীয় কোনো বাধা রয়েছে সেটি আপনারা জনগণের সামনে প্রকাশ করুন। আমরা যেভাবে আগস্ট মাসে রাস্তায় নেমে এসেছিলাম ঠিক একইভাবে আবার রাস্তায় নেমে আসবো। এই প্রোক্লেমেশন দিতে আপনাদের বাধা কোথায়? কারা বাধা দিচ্ছে সেগুলো আপনারা জনগণের সামনে প্রকাশ করুন। যদি আপনারা ব্যর্থ হন তাহলে উপদেষ্টার কাতার থেকে জনগণের কাতারে নেমে আসুন। আমরা একসঙ্গে মিলে যেভাবে হাসিনার পতন ঘটিয়েছি, প্রয়োজন হলে সেভাবে আবার আমাদের প্রোক্লেমেশন আদায় করে নেবো।