দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সোমবার ফেরার কথা থাকলেও, তা একদিন পিছিয়ে গেছে।
শনিবারই বিএনপি তরফে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি সাধারণ ফ্লাইটে নয়, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কাতারের আমিরের পাঠানো একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। তবে শুরুতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির ঢাকায় পৌঁছানোর সময় জানা না গেলেও, রোববার তা নিশ্চিত করা হয়।
খালেদা জিয়ার ফেরা উপলক্ষে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত রাস্তায় দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। রিজভী জানান, ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বরণ করার জন্য নির্ধারিত স্থান অনুযায়ী অবস্থান নেবেন।
বিমানবন্দর থেকে লা মেরিডিয়ান হোটেল পর্যন্ত সড়কে থাকবে মহানগর উত্তর বিএনপি; লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে খিলক্ষেত এলাকায় থাকবে ছাত্রদল; যুবদল থাকবে খিলক্ষেত থেকে হোটেল রেডিসন পর্যন্ত; আর হোটেল রেডিসন থেকে আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত থাকছে মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।
অন্যদিকে, আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী কবরস্থান পর্যন্ত সড়কে থাকছে স্বেচ্ছাসেবক দল; বনানী কবরস্থান থেকে কাকলী মোড় পর্যন্ত কৃষক দল; কাকলী মোড় থেকে বনানী শেরাটন হোটেল পর্যন্ত শ্রমিক দল; ওলামা দল, তাঁতীদল, জাসাস, মৎস্যজীবী দল থাকবে বনানী শেরাটন হোটেল থেকে বনানী কাঁচাবাজার এবং বনানী কাঁচাবাজার থেকে গুলশান-২ পর্যন্ত থাকবে মুক্তিযোদ্ধা দল ও পেশাজীবী সংগঠনসমূহ।
আর, গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে গুলশান এভিনিউ রোড পর্যন্ত থাকছে মহিলা দল ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা। এছাড়া, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতা-কর্মীরা নিজেদের সুবিধামতো নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
তিনি আরো জানান, বিমানবন্দর ও চেয়ারপারসনের বাসভবনে কেউ হঠাৎ করে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। নেতা-কর্মীদের জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে রাস্তার পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দেয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়া নতুন একটি টয়োটা ক্রাউন গাড়িতে চড়েই ফিরোজায় পৌঁছাবেন। তার নিরাপত্তার জন্যও পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার গাড়ির সঙ্গে কোনো মোটরসাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচল করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শান্তিপূর্ণভাবে ও সম্মানজনকভাবে নেত্রীকে বরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেয়া হয়। সেখানে টানা ১৭ দিন লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি তারেক রহমানের বাসায় ফেরেন। তার চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ছিলেন অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রস।