হাদির হামলাকারীদের ধরতে ছয় ঘণ্টা সময় দিলো মঞ্চ চব্বিশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ধরতে ছয় ঘণ্টা সময় বেঁধে দিলেন মঞ্চ চব্বিশের আহবায়ক ফাহিম ফারুকী। তিনি বলেছেন, নচেৎ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে তার পদে থাকতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য ওসমান হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এ আক্রমণের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ বার্তা দিয়েছে যে, এদেশে নির্বাচন হলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। সুতরাং নির্বাচন যেন কোনোভাবেই না হয়, সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কাজ করছে।

ফাহিম আরও বলেন, আমাদের পুলিশ প্রশাসন অকার্যকর। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার যে নিষ্ক্রিয়তা, এর জন্য আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি এবং দ্রুততম সময়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। আগামী ৬ ঘণ্টার মধ্যে যদি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, আমরা লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করবো। 

হাদির অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি নিঃশ্বাস নিচ্ছেন, তাকে ব্লাড দেওয়া হচ্ছে। তার পরিবার সেখানে উপস্থিত আছেন। তার পরিবার চাচ্ছেন যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। 

এদিকে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে মাথায় গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বুলেট হাদির মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত। আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, আর এ অবস্থায় কোনো ধরনের নতুন ইন্টারভেনশন করা হবে না।

তিনি বলেন, হাদি এখন ‘খুবই ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় আছেন। তাকে আপাতত কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে, যদিও চিকিৎসকেরা এখনও আশার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। তবে একটুখানি আশার জায়গা আছে, রোগীর শরীরে এখনও সাইন অব লাইফ আছে। অপারেশনের সময় তার নিজের শ্বাস নেওয়ার কিছু প্রচেষ্টা দেখা গিয়েছিলো। হাদি অস্ত্রোপচারের আগেই একবার শকে চলে গিয়েছিলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের সময় তার নাক ও গলা দিয়ে প্রবল রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যদিও আপাতত সেটি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।