সিলেটে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনসভার মাঝপথে সামনের সারিতে বসা এক মুরুব্বিকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে সরাসরি কথোপকথনে মেতে ওঠেন তিনি। ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক সচেতনতাকে একসূত্রে গেঁথে তারেক রহমানের করা সেই প্রশ্নগুলো উপস্থিত লাখো মানুষের নজর কেড়েছে।
তারেক রহমানের আহ্বানে মঞ্চে ওঠা ওই ব্যক্তির নাম এটিএম হেলাল। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভা চলার সময় হঠাৎ হেলালের দিকে নজর পড়ে তারেক রহমানের। তাকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে তারেক রহমান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন তাঁকে।
তারেক রহমান: আপনি হজ বা ওমরাহ করেছেন?
এটিএম হেলাল: ২০১৬ সালে ওমরাহ এবং ২০১৭ সালে হজ করেছি।
তারেক রহমান: আপনি কাবা শরিফে গিয়েছেন? কাবা শরিফের মালিক কে?
এটিএম হেলাল: আল্লাহ।
তারেক রহমান: বেহেশত ও দোজখের মালিক কে?
এটিএম হেলাল: আল্লাহ।
এই কথোপকথনের রেশ ধরে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দেন। তিনি বলেন, যেটির মালিক স্বয়ং আল্লাহ, সেটি অন্য কেউ দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ মহল সাধারণ মানুষকে পরকালীন প্রাপ্তির প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, যার অধিকার শুধুমাত্র আল্লাহর, সেই অধিকার নিয়ে কথা বলে একটি মহল মানুষকে ঠকাচ্ছে। তারা মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে ‘শিরক’ করছে। যারা নির্বাচনের আগে মানুষকে এভাবে ঠকায়, নির্বাচনের পরে তারা কতটা ঠকাবে তা সহজেই অনুমেয়’।
মঞ্চ থেকে নামার পর এটিএম হেলাল বলেন, আল্লাহ তায়ালা খাস মনে কোনো কিছু চাইলে তা পূরণ করেন, আজ আমি তার প্রমাণ পেলাম। দেশনায়ক তারেক রহমান বিদেশ থেকে ফেরার পর উনার সঙ্গে দেখা করার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আল্লাহ যে আমাকে এভাবে সম্মানের সাথে মঞ্চে ডেকে নেবেন, তা আমি ভাবিনি।
তিনি আরও যোগ করেন, যখন তারেক রহমান তার বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ কি না জানতে চান এবং উপস্থিত জনতা একযোগে ‘হ্যাঁ’ বলে সায় দেয়, সেটি ছিল তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।