ধানের শীষের পাশপাশি গণভোটে 'হ্যাঁ' -এর পক্ষে রায় দেবেন: তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী দলের মিথ্যাচারের সমুচিত জবাব এবং দেশ পরিবর্তনে ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। 

এদিন বিকেলে জনসভা শুরু হলেও, বগুড়া থেকে সড়কপথে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছা-ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি যখন রংপুরের এই ঈদগাহ মাঠে পৌঁছান, তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত সাড়ে ৮টা। 

এর অনেক আগেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

শুরুতেই রংপুর বিভাগের সংসদীয় আসনে দলের মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা রংপুর বিভাগের উন্নয়নে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। একই সাথে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ রংপুর বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দাবি জানান।
 
এরপর লাখো জনতার সামনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে দলের ভাবনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। জানান, রংপুরকে নিয়ে করা বিএনপির পরিকল্পনাও।

তার বক্তব্যে উঠে আসে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র আর পরিবর্তনের বার্তা। শোনা যায় আন্দোলনের ভাষা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

তারেক বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সে জন্যেই আপনাদের সকলকে অনুরোধ করবো- ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে। একই সাথে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দিবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।  

তিনি বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সকলেই ভোট দেবেন।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার উন্নয়নের নামে লুটপাট করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে অভিযোগ করে তারেক রহমান তার বলেন, ক্ষমতায় গেলে এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি।  

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।

বিএনপিকে জড়িয়ে যারা মিথ্যাচার করছে তাদের তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

তারেক রহমান বলেন, একটি দল আমাদের সঙ্গে পাঁচ বছর সরকারে ছিল। তাদের মন্ত্রী ছিল। তখন আমরা ভালো হলেও এখন আমরা তাদের কাছে নাকি খারাপ। আমরা প্রশ্ন হচ্ছে- আমরা খারাপ হলে তারা কেন পাঁচ বছর সঙ্গে ছিল?  

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।