আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে এক প্রাণবন্ত গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদরের আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি বাজার এবং ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলাদা নির্বাচনী সভায় তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মানুষ এবার একটি প্রকৃত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই প্রার্থী তার বক্তব্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এবার ভোটে কোনো ধরনের জালিয়াতি, ছলচাতুরী বা জবরদস্তির কোনো আশঙ্কা নেই। সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ, সবাই একটি স্বচ্ছ নির্বাচন চায়।
মির্জা ফখরুলের মতে, এবারের ভোটের মাধ্যমে এমন একটি সরকার গঠিত হবে যারা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের আয় বাড়ানোর পথ তৈরি করবে।
বিগত নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেননি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট চুরির ঘটনা ঘটেছিল এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনের এক আবেগঘন বার্তায় মির্জা ফখরুল ঘোষণা করেন, এটিই তার জীবনের শেষ নির্বাচন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পরে আমার আর কাজ করার মতো বয়স বা শারীরিক সক্ষমতা থাকবে না। তাই এলাকার উন্নয়নে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে তিনি ভোটারদের কাছে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর একাত্তরের ভূমিকা নিয়েও সংক্ষিপ্ত কথা বলেন এবং জনগণকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, ভোটাররা তাদের বিবেক অনুযায়ী পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার গঠনে সহায়তা করবেন।