আমানত দিলে জনগণের সেবক হয়ে পাহারাদারি করবো: ডা. শফিকুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

নিরাপত্তা ও সুশাসনের অভাব ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এখনও মায়েরা ঘরে, বাইরে কিংবা কর্মস্থলে নিরাপদ নন। চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভয়ে নিরীহ মানুষ অস্থির। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন? নিজেকে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী শাসকরা শহীদদের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

বিগত সাড়ে ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচারের তথ্য উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এই টাকা দেশের প্রতিটি নাগরিকের, এমনকি ভিক্ষুক ও নবজাতকেরও। তিনি অঙ্গীকার করেন, ক্ষমতায় গেলে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নয়, সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখা হবে। রাজধানীসহ সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

jamat1

নারীর মর্যাদা ও সম-অধিকার নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু আর কাউকে মা-বোনের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেব না। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য করে বলেন, মা-বোনদের সম্মান করতে শিখুন। কেউ কোনো অপ্রীতিকর আচরণ করলে তাকে প্রতিহত করে পুলিশের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আমলনামা জনগণের সামনে তুলে ধরার এক ব্যতিক্রমী অঙ্গীকার করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, তাদের জোট থেকে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা প্রতি বছর নিজেদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে বাধ্য থাকবেন।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু কাগজের সার্টিফিকেট দেবে না, বরং দক্ষ জনবল তৈরির কারখানায় পরিণত হবে। তিনি বেকার ভাতার পরিবর্তে যুবকদের হাতে ‘মর্যাদার কাজ’ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ‘গ্রামকে শিল্প’ বানানোর এবং কৃষিভিত্তিক কলকারখানা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

হবিগঞ্জের চাবাগান শ্রমিকদের অমানবিক জীবনযাপন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চা বাগানে আধুনিকতা ও প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই রাজার ছেলে রাজা হওয়ার ধারা পাল্টে দিতে। মেধা থাকলে শ্রমিকের সন্তানও যেন আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, সেই রাজনীতি চালু করতে চাই।

jamat2

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বাংলাদেশের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। হবিগঞ্জের চার আসনের জন্য তিনি জোটের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, দেয়ালঘড়ি এবং রিকশা মার্কায় ভোট চান। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমাদের একবার পরীক্ষা করে দেখুন, আমরা মালিক হব না, সেবক হয়ে আপনাদের সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদারি করব।”

সবশেষে তিনি আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ সব শহীদদের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি ঐক্যবদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।