দুই অনুচ্ছেদের সুরক্ষা চেয়ে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবি

সংবিধানের ৯৬ ও ১০২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা বহাল রেখে ‘বিতর্কিত’ পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন আপিলকারীর আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। 

ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, অত্যন্ত অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই পঞ্চদশ সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছিরো এবং এর মাধ্যমে মূলত সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই এই সংশোধনীর পুরো অংশই বাতিল হওয়া উচিত।

শুনানিতে ড. শরীফ ভূঁইয়ার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আপিলের পক্ষভুক্ত অন্য আইনজীবীরা তাদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আলাদা দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের ফলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরার পথ সুগম হলেও কিছু সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতা থেকে যায়। মূলত সেই জটিলতা নিরসন এবং পুরো সংশোধনীটি বাতিলের দাবি জানিয়ে পরবর্তীতে আপিল বিভাগে আলাদা তিনটি আপিল আবেদন করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে টানা কয়েক দিন এই সংক্রান্ত শুনানি হয়েছিলো। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে অতীতের মতো পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ রায় দিতে চান না উল্লেখ করে তৎকালীন সর্বোচ্চ আদালত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমান আপিল বেঞ্চে নতুন করে আবার এই শুনানি শুরু হলো।

২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে সংবিধানের এই পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করা হয়, যার মাধ্যমে প্রধানতম পরিবর্তন হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছিলো।