পঞ্চদশ সংশোধানীর আংশিক বাতিল চায় জামায়াত, কেন?

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর পক্ষ থেকে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবি জানানো হলেও, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এটি আংশিক বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী শিশির মনির। তিনি আদালতকে বলেন, আদালতের কাজ আইন প্রণয়ন করা নয়। তাই আদালতের আইন প্রণেতার ভূমিকা পালন করা উচিত হবে না। 

তিনি আরও বলেন, এই সংশোধনীর যেসব বিধান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কেবল সেগুলোই বাতিল করা উচিত এবং বাকি বিষয়গুলো সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া দরকার।

এর আগে শুনানির শুরুতে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অত্যন্ত অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পঞ্চদশ সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছিলো, যা আদতে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এই যুক্তিতে তিনি পুরো পঞ্চদশ সংশোধনীই বাতিলের দাবি জানান। তবে পুরো সংশোধনী বাতিলের কথা বললেও, তিনি সংবিধানের ৯৬ ও ১০২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা (বহাল রাখার) আবেদন জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালে পাস হওয়া এই পঞ্চদশ সংশোধনীকে ভিত্তি করেই দেশে স্বৈরশাসনের বীজ বপন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর দলীয় সরকারের অধীনে একের পর এক একপাক্ষিক ও কারচুপির নির্বাচন আয়োজন করা হয় বলে বিরোধী দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে টানা কয়েক দিন এই সংক্রান্ত শুনানি হয়েছিলো। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে অতীতের মতো পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ রায় দিতে চান না উল্লেখ করে তৎকালীন সর্বোচ্চ আদালত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন গঠিত আপিল বেঞ্চে আবার এই শুনানি শুরু হলো।

এর আগে আলাদা দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরার পথ সুগম হলেও কিছু সাংবিধানিক জটিলতা থেকে যায়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আলাদা তিনটি আপিল আবেদন করা হয়, যার ওপর বর্তমানে চূড়ান্ত শুনানি চলছে।