জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, শাহজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার ও আবদুর রাজ্জাকসহ দলটির প্রায় ১০ জন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন টিম।
সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এ জানিয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থা থেকে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো বর্তমানে নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার কাজ চলছে, যা এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক এই মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সরাসরি ও কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা ‘সুপেরিওর রেসপনসিবিলিটি’র (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে যে ধরনের নির্দেশনা ও বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিলো, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তদন্ত প্রতিবেদনগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে জুলাই হত্যাযজ্ঞ সংক্রান্ত ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বহুল আলোচিত ২০১৩ সালের মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে প্রীতিকর ঘটনা ও হত্যা মামলার তদন্তও সম্পন্ন হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশন প্যানেল বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। এই পর্যালোচনা শেষে আগামী ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।