শেখ হাসিনা দেশে এলে স্বাগত, তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই: তথ্য উপদেষ্টা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, এই সরকার সবার জন্য ইনসাফ নিশ্চিত করতে চায়। শেখ হাসিনা চাইলে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বিদেশি আইনজীবীও আনতে পারেন, বিচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে চলবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে কোনো ভূ-রাজনীতি বা আন্তর্জাতিক চাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এখানে জিও পলিটিক্সের কোনো প্রভাব নেই। সরকারের ওপর কোনো ধরনের চাপের প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সে প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, যতোক্ষণ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা বহাল আছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এটি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধানে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা যায়। বিরোধী দলেরও উচিত এই আলোচনায় অংশ নেওয়া।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, উচ্চকক্ষ সৃষ্টিসহ কিছু বিষয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত থাকলেও, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের আলোকেই বিএনপি ও বর্তমান সরকার যৌথভাবে কাজ করে যাবে। সরকার এই আন্দোলনের স্পিরিট প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায়।

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, বন্যা মোকাবিলায় সরকার প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বন্যাকালীন সাপের উপদ্রব বাড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাপে কাটা রোগীদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। ফলে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো, তা সঠিকভাবে ব্যয় করা হয়নি। যার খেসারত নগরবাসীকে এখনও দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফলে এবার ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা বেশি বৃত্তি পেয়েছে উল্লেখ করে এটিকে দেশের জন্য একটি নিঃসন্দেহে বড়ো সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন তথ্য উপদেষ্টা।

ব্রিফিংয়ের শেষভাগে তিনি জানান, আগামী ১৬ জুলাই রংপুর ও ঢাকাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আয়োজন রয়েছে, যা সফল করতে সরকার কাজ করছে।