ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে ভারত সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ও সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত এবং ক্ষমতাচ্যুত একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে দিল্লির স্পষ্ট ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর বর্তমান সময়ে এসে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পালে যে ইতিবাচক হওয়া লেগেছে, আমরা চাই না তেমন কোনো ঘটনায় তা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় বজায় রাখার অগ্রাধিকার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত সমভাবেই রয়েছে।
এ সময় আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যাবেন কি না—সংবাদমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী পাঁচ আগস্ট ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেবেন।
নয়াদিল্লির স্যার মার্ক ট্রলি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানটি আয়োজক সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের টানা দুই বছর পর শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য বক্তব্য ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।