সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধরে-বেঁধে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে আদালতে তার সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচারের নিষেধাজ্ঞা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ নানা সার্বিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে ধরে-বেঁধে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। তবে একই সঙ্গে তিনি বিচারপ্রক্রিয়ায় যেন সব ধরনের আইনি অধিকার পান, তাও আমরা নিশ্চিত করবো।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার করা আদালতের নির্দেশ অমান্য করার শামিল। তাই সবাইকে এ ধরনের বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যদি তার বক্তব্য প্রচার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমান সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক চাপ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, এই সরকার কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপে বা সঙ্কটে নেই। তিনি বলেন, আগের সরকার শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নানা ধরনের সমঝোতা বা নেগোসিয়েশন করতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়, কারণ এই সরকার জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে।
প্রশাসনে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও বিগত শাসনের প্রভাব রয়ে গেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও তার অনুসারীরা এখনও বিভিন্ন জায়গায় রয়ে গেছেন। চাইলেই তাদের সবাইকে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে তিনি বলেন, এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ক্ষতির কারণে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যে বিদ্যুৎ সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তা সাময়িক। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ধাপে ধাপে গ্যাস সঙ্কট কেটে যাবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এ সময় সঙ্কট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং ধৈর্য ধারণের আহবান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কোনো ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ থাকলে সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে জানানোর সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে টমেটো ও কাঁচা মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য শস্য মজুত রয়েছে।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের জামিন এবং নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের দেশে ফেরা সংক্রান্ত আলাদা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে এবং তসলিমা নাসরিনের ক্ষেত্রে তিনি নিজ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলে সরকার তা বিবেচনা করবে।