জুলাই আন্দোলন দমনে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করতে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ফোন করে ইন্টারনেট ধীরগতির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদেরের ওই নির্দেশনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনে বন্ধ করা হয় দ্রুতগতির থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট।
রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চলা মামলায় এ–সংক্রান্ত কল রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং পুলিশের দমন-পীড়নের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে সারাদেশ। কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকার পতনের দিকে মোড় নেয়। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রাণহানির খবর যাতে বাইরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ইন্টারনেট বন্ধ করার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, আন্দোলন চলাকালে ইন্টারনেট ধীরগতির করতে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে সরাসরি ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষার পর এই কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তথ্য-প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে।