রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হয়েছে। ড. আবদুল মঈন খানের প্রস্তাবে এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সমর্থনে তার এই মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব তথ্য জানান।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নের প্রস্তাবক ড. মঈন খান এবং সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আমরা বহু বছরের সংগ্রামের পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছি। দেশের সংসদ সদস্যরা বিগত ১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত আছেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সচিবালয়ে আয়োজিত সভাটি স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিলো না এবং প্রার্থী কে হবেন তা আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।
সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই; একটি সামান্য পরিবর্তন বা কমা সংশোধনও সংস্কারের অংশ। সবার মতামত নিয়েই এই ধারাবাহিক সংস্কার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
মনোনয়ন জমা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের পর খালি হওয়া বিএনপির মহাসচিব পদ এবং শূন্য থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্ব কে পাবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ জানান, এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
একই সময়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী জোটের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান না করে অংশ নিচ্ছে, এটিকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি মোটেও কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়; বরং সম্পূর্ণ সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গণভোটের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উল্লেখ করেন যে, গণভোট মেনে বা না মেনে উভয়ভাবেই কাজ পরিচালনা করা যায়, তবে বিএনপি সংসদে সিদ্ধান্ত মানার পক্ষে বিশ্বাসী।