সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ, লংমার্চে বাধা দিলে জনগণই প্রতিহত করবে: এনসিপি

জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকার দেশকে আবারও পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটিয়ে দলীয়করণের কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।  

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আগামী পাঁচ সেপ্টেম্বর ১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও এর দলীয় প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় এসে ঠেকেছে, এমনকি সংসদ ভবনের সামনে প্রকাশ্যে ছিনতাইকারীর হাতে মানুষের প্রাণ হারাতে হচ্ছে। অথচ গণহত্যার বিচার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলছি, কিন্তু সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই লংমার্চের মাধ্যমে আমরা সারাদেশে সরকারের ব্যর্থতার কথাগুলো তুলে ধরে জনমত গঠন করতে চাই। জনগণের অধিকার আদায়ের এই লংমার্চে কোনো বাধা এলে সাধারণ জনগণই তা প্রতিহত করবে।  

সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী লংমার্চের বিস্তারিত সূচি তুলে ধরে জানান, পাঁচ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটায় ঢাকার শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এড়াতে এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখতে লংমার্চের বহরে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ৫-৬ হাজার থেকে কমিয়ে এক হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে। শৃঙ্খলভাবে একটি নির্দিষ্ট লাইনে গাড়িগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে।  

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, যাত্রা পথে বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোডের সিদ্ধিরগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডে। এরপর দুপুর ১২টায় কুমিল্লার নূর হোটেলের খালি জায়গায় পথসভা ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে। পরবর্তীতে বেলা তিনটায় ফেনীর মহিপাল এবং বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা শেষে রাত ৯টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে মহাসমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ সম্পন্ন হবে।  

এদিকে ১১ দলের এই লংমার্চ সফল করতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। লিফলেট বিতরণকালে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি রেজাউল করিম বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের মাশুল সাধারণ জনগণকে দিতে হচ্ছে। এ সময় লংমার্চ সফল করতে সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহবান জানান নেতারা।