আমাদের ওপর বছরের পর বছর স্টিম রোলার চালানো হয়েছে, চরম নির্যাতন সহ্য করেছি তবুও দেশ ছেড়ে যাইনি উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি। পুরনো ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে আপনাদের সরাতে ১৫ বছর লাগবে না। অতীতে আপনাদের ভূমিকা আমাদের জানা আছে। আপনারা সব জায়গায় নির্লজ্জ দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে? যেখানে অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীতে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও জোট নেতা মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, লংমার্চের মধ্য দিয়ে ১১ দলের মূল আন্দোলন কেবল শুরু হয়েছে। এই আন্দোলন ঢাকা ঘেরাওয়ের মাধ্যমে শেষ হবে।
লংমার্চ থেকে উত্থাপিত ১১ দলীয় ঐক্যের মূল দাবিগুলো হলো—
১. গণভোটের রায় বাস্তবায়ন।
২. জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ।
৩. বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন।
৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
৬. প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করতে পারেনি। সংসদে রীতিমতো স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে বর্তমান সরকার। আর কোথাও যদি ১১ দলের নেতা-কর্মীদের গায়ে কেউ হাত দেয়, তবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাল্টা জবাব দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার যদি আন্দোলন সামলাতে বিরোধী দলের সহযোগিতা চায়, তবে ১১ দলের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির সবগুলোই আগে মেনে নিতে হবে।