ফিরলে মব নয়, ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন শেখ হাসিনা: তথ্য উপদেষ্টা

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন না। কেবল আলোচনায় থাকার জন্যই তিনি এমন ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে তিনি দেশে ফিরলে কোনো বেআইনি পরিস্থিতির শিকার হবেন না, বরং ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে অবস্থান ও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এভাবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো বা সাংবাদিক সম্মেলন করা সরকার পছন্দ করছে না। শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আগের মনোভাবই বজায় রয়েছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে কোনো বার্তা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া হলেও সরকার এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।

শেখ হাসিনাকে আক্ষেপ করে ‘ডাকাত’ সম্বোধন করে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আলোচনায় থাকতেই ডিসেম্বরে তার দেশে ফেরার এই গুঞ্জন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কখনো কারও ন্যায়বিচার করেননি, আমরা তা ন্যায়বিচার দিয়েই করবো। তিনি ফিরলে মব ফেস করবেন না, ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন।

সম্প্রতি ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিতর্কিত বক্তব্য এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার ঝড়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি সমর্থন করে না। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে বিদেশে সফরে রয়েছেন, তিনি দেশে ফিরলেই আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা ও টঙ্গীর ঘটনার পর মৌলবাদী আস্ফালনের যে অভিযোগ উঠেছে, সে প্রসঙ্গে সরকারের মুখপাত্র ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার মৌলবাদী কিংবা অতি-ডানপন্থিদের কখনোই প্রশ্রয় দিচ্ছে না। ‘মুক্তিযুদ্ধকে কবর দিতে দেওয়া হবে না’—এমন মন্তব্য সঠিক ছিলো না এবং কোনো রাজনৈতিক দলই এটিকে সঠিকভাবে নেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের অন্য সেবা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. জাহেদ বলেন, ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত স্বাস্থ্যতথ্য নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও সমন্বিত হেলথ ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে রাস্তার পাশে যেকোনো দোকান চালাতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন নিতে হবে।

জ্বালানি খাতের ওপর সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সঙ্কট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে এবং নতুন নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার দুর্গাপূজা অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে কোনো আস্থার সঙ্কট ছিলো না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা থাকলেও এবার তারা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। গত বহু বছরের মধ্যে এমন নিরাপদ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়নি এবং ওপার থেকেও কোনো বিরূপ সমালোচনা আসেনি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও চার বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বলে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে স্মরণ করিয়ে দেন।