কাকতালীয়! রোনালদো-নেইমারের জন্ম একই দিনে

কাকতালীয় হলেও ফুটবল গ্রহ মাতিয়ে চলা বিশ্ব ফুটবলে দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর নেইমারের জন্ম একই দিনে।

একজন নিজেকে সাফল্য চূড়ায় নিয়ে গেলেও, আরেকজন এখনো নিজেকে প্রমাণ করে চলেছে। যদিও নেইমার রয়ে গেছেন এক আফসোস হয়ে। মেসি রোনালদো যুগে জন্মানোর ফলে যার মুকুটে যোগ হয়নি সময়ের সেরা খেতাব, পাওয়া হয়নি কোনো ব্যালন ডি’অরও।  

বিস্ময়কর কোনো রোমান্টিক কবিতার বই রোনালদো নন, তিনি রহস্যে ঠাসা কোনো টানটান উত্তেজনার উপন্যাসের মতো। যেখানেই শেষ হতে বসেন, শেখান থেকেই করেন নতুন শুরু। তার ডায়েরিতে আসলে শেষ বলে যেন কিছু নেই।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো, আরো কতোটা চূড়ায় উঠে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না এখনো।

সেই রহস্য সাথে করেই নিজেকে গবেষণার বিষয় বানিয়ে রোজ তিনি মাঠে নামছেন। কখনো সফল, আবার কখনো ব্যর্থও হচ্ছেন।

সাফল্য ব্যর্থতার এই পথচলায় ৩৬ পেরিয়ে ৩৭'এ পড়লেন রোনালদো। তার বয়সের অনেকেই যখন কোচিংয়ে কিংবা অবসর যাপন করছেন তখন তিনি সমানতালে মাঠ কাঁপিয়ে চলছেন, উড়ন্ত রোনালোদোকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা না জানিয়ে উপায় নেই।

নিন্দুকরাও মানতে বাধ্য, ফুটবলে রোনালদো যুগ দেখতে পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। এক সময় বুক ফুলিয়ে গর্ব করে বলা যাবে, আমি সময়ের অন্যতম মহাতারকাকে খেলতে দেখেছি।

পাঁচ ফেব্রুয়ারি দিনটা কেবল রোনালদোর জন্মদিন বলেই বিখ্যাত নয়, সাম্বার দেশের ফুটবল বিস্ময় নেইমারের জন্মদিনও এই দিনে।

পেনাল্টি কিং নামে রোনালদোকে যেমন কটাক্ষ করা হয়, তেমন নেইমারকে ডাকা হয় অভিনেতা। অনেকেরই দাবি, ফুটবল মাঠে নেইমারে খেলায় চেয়ে অভিনয়টা বেশি।

তারপরও ফুটবল বোদ্ধারা মানতে বাধ্য, নেইমার হালে সেরা ফুটবল প্রতিভা। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার নাম। এক সময় ভাবা হতো নেইমার জুনিয়রই তার সিনিয়র মেসি-রোনালদোকে টেক্কা দেবেন, যদিও সেখানে বাঁধ সেধেছে ইনজুরি।

চোটের তোপে পড়ে অনেক ম্যাচ খেলতে না পারায় সেই সম্ভাবনায় গুড়ে বালি, তবুও নেইমারের প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

বরং উল্টো আপনি আফসোস করতে পারেন, মেসি রোনালদোর আলোয় চাপা পড়ে গেছে নেইমার নামের উদীয়মান সূর্য। সম্ভাবনার সবটুকু থাকা সত্ত্বেও যার সময়ের সেরা ফুটবলারের তকমা গায়ে সাটা হলো না, এখনো পাওয়া হলো না একটা ব্যালন ডি’অর।


একাত্তর/টিএ