যত গর্জে তত বর্ষে না। ফুটবল দুনিয়ায় নেইমার যেন তেমনই। সবচেয়ে দামী ফুটবলার হিসেবে পাঁচ বছর আগে যোগ দিয়েছিলেন পিএসজিতে।
দিনশেষে সেই নেইমারই এখন কাতারি মালিকানাধীন ক্লাবটার ‘লস্ট প্রজেক্ট’। এমনই অবস্থা যে নেইমারকে ঘাড় থেকে নামাতে পারলে রক্ষা পায় পিএসজি।
সালটা ২০১৭। ফুটবল বিশ্বে ঘটে গেলো ভিমড়ি খাওয়ার মতো এক ঘটনা। বার্সেলোনা থেকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দেন ব্রাজিলিয় তারকা নেইমার।
মেসি আর রোনালদোদের মতো সুপারস্টারদের পেছনে ফেলে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার হয়ে যান বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার।
দেখতে দেখতে সময়টা গড়ালো পাঁচে। তবে, যে আশা ভরসা মেটাতে নেইমারকে আনা হলো পিএসজিতে তার শিকে ভাগও কপালে জোটেনি পিএসজির।
প্রাপ্তি বলতে ২০১৯-২০ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল। চলতি মৌসুমে রিয়ালের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে আগেভাগে। সময়ের সাথে দেনা পাওনার হিসেবে বেড়েছে ফারাক।
অথচ কাতারের ধবকুবের ফেলাইফির মালিকাধীন ক্লাবটি থেকে কি পায়নি নেইমার। মৌসুমে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ইউরো বেতন পান, যা তার সতীর্ত মেসি-এমবাপের চেয়েও ঢের বেশি।
আর তাইতো স্কোরশিটে নাম তোলার পরও আজ শুনতে হয় দুয়োধ্বনি। চলতি বছরে পারফর্ম্যান্স একবারে তলানির দিকে। লিগ ওয়ানে ১৬ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন মোটে সাতটা।
আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রুপ পর্ব ও নকআউট মিলিয়ে ছয় ম্যাচ খেলে জালের দেখা পাননি একবারও। ক্যারিয়ারে ৮৬ ম্যাচ খেলে ৬৩ গোল করেছেন পিএসজির জার্সিতে।
মাঠ ও মাঠের বাইরে প্রত্যাশার দাবি মেটাতে না পারায় নেইমারের ওপর বেজায় চটে আছেন প্যারিসিয়ানদের সভাপতি নাসের আল খেলাইফি।
নেইমারের বিপক্ষে অভিযোগ পিএসজি নয় প্যারিসই পছন্দ এই ব্রাজিলিয়ানের। খেলার চাইতে আমোদ ফূর্তিতেই আগ্রহ বেশি নেইমারের।
এই যখন অবস্থা তখন গেলো বছর নেইমারের সাথে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চুক্তি করে রীতিমতো ফেঁসে গেছে কাতার মালিকানার ক্লাবটা।
সব মিলিয়ে নেইমার এখন পারিসিয়ানদের গলার কাটা। কাটা উগড়াতে ওকে ছাড়তে কাতার ক্লাবটা অবশ্য দিয়ে রেখেছে গ্রীণ সিগন্যাল।
অমিত সম্ভাবনা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় পা রাখলেও মেসি আর রোনালদোর পর্যায়ে কখনো পৌঁছাতে পারেননি নেইমার। পারবেন বলেও মনে করছে না কেউ।
বিশ্বসেরার দৌড়ে সব সময়ই এই দুইজনের থেকে পিছিয়ে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। কারণ নেইমার যে নিজের সেরাটা পেছনে ফেলে এসেছেন অনেক আগেই।
একাত্তর/এআর