সারা জীবন কেউ প্রশাসক থাকতে পারে না: সৌরভ

দেওয়াললিখন স্পষ্ট। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তার জায়গায় নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট এখন রজার বিনি। আইসিসিতে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও সৌরভের সামনে সেই সুযোগ নেই। তাকে নিয়ে মোটের ওপর বিভক্ত ভারতীয় ক্রিকেট। অনেকেই দাবি রাজনীতির শিকার ভারতীয় ক্রিকেটের মহারাজ।

বিজেপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার জন্যই তার ওপর কোপ পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার ফল ভুগতে হচ্ছে সৌরভকে।

কিন্তু যাকে নিয়ে এত কথা, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিংহাসনচ্যুত হয়ে চুপ থেকেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) অবশেষে মুখ খুললেন অভিমানী সৌরভ। কলকাতায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি বলেন, ‘সারা জীবন কেউ প্রশাসক থাকতে পারে না। সবাইকেই জীবনের একটা সময় প্রত্যাখ্যাত হতে হয়।’

তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে প্রথম তিন বছর তিনি উপভোগ করেছেন। তবে ক্রিকেট জীবন তার কাছে আরো বেশি কঠিন ছিলো।

তিনি আরো বলেন, গত তিন বছরে ভারতীয় ক্রিকেট অনেক কিছু পেয়েছে। আমি সিএবি প্রেসিডেন্ট ছিলাম পাঁচ বছর। বিসিসিআই -এর প্রেসিডেন্ট ছিলাম তিন বছর। প্রতিটি সংস্থারই নিয়ম অনুযায়ী একটা সময়সীমা থাকে। তার পরে আর থাকা যায় না, সরে যেতে হয়। ক্রিকেটার হিসেবে চ্যালেঞ্জ বেশি। তবে একজন প্রশাসকের অবদান অনেক বেশি। দলের জন্য অনেক কিছু করতে হয়। দেশের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলার পরে এটাই আমার অনুভূতি। প্রশাসক হিসেবে আমার কার্যকাল দারুণ উপভোগ করেছি। গোটা বিশ্বে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।

বোর্ড সভাপতি হয়ে নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি সেই তালিকায় সরাসরি বলেন, কোভিড মহামারির মত চরম দুঃসময় সফলভাবে আইপিএল আয়োজন করেছেন। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা দল রুপো পেয়েছে। ভারতের পুরুষ দলও বিদেশের মাটিতে তারই সময় সাফল্য পেয়েছে।

খানিকটা দার্শনিক মত সৌরভ বলেন, ক্রিকেটে একটা শতরান নিজেকে বিশ্বাস করায় যে পরের দিন খেলতে নেমে ভালো খেলব। নিজের কাছে সেই ক্ষমতাটা আছে ভাল খেলার। কারণ আমার জীবন একটি বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে। আত্মবিশ্বাস। কারণ সবাইকেই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সবাইকে রিজেক্ট করা হয়। সবাইকে পুরস্কৃত করা হয়। এটাই জীবনচক্র। তবে সবকিছুতেই একটা জিনিস থাকে যা হল নিজের ওপর বিশ্বাস। যা তোমাকে জীবনচক্রে চলতে সাহায্য করবে।

তাৎপর্য-পূর্ণভাবে, এই সময়ে সৌরভের মুখে শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম। তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে দারুণ সব মুহূর্ত রয়েছে। কেউ সারাজীবন খেলে না। আবার একইভাবে কেউ সারাজীবন প্রশাসক হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে না। এরপরে আরো বড় মঞ্চে নিজেকে অন্য ভূমিকায় দেখব বলেই বিশ্বাস রাখি।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয়দিনে তাজমহল ঘুরে দেখলো বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা

সৌরভ বলেন জীবনে উন্নতি করতে গেলে ধৈর্য ধরে এগুতে হবে, সেই প্রসঙ্গেই মহারাজের মুখে উঠে আসে মোদীর নাম। সৌরভ বলেন, একদিনে কেউ শচীন তেন্ডুলকর হয় না। মাত্র একবারের চেষ্টায় কেউ মুকেশ আম্বানিও হয়ে যেতে পারে না। এমনকি, একদিন পরিশ্রম করলেই কেউ নরেন্দ্র মোদী হয়ে উঠতে পারে না।

সৌরভের মুখে মোদীর নাম শুনে নানা মহলে আবার নতুন করে রাজনৈতিক যোগদান নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।


একাত্তর/আরএ