প্রথম থেকে চাপে থাকা ভারতীয় ব্যাটারা অবশেষে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়েছেন। শুরু বেহলা দশা থেকে বিরাট কোহলির দৃঢ়তায় ঘাম ঝরানো ম্যাচে স্নায়ুচাপকে জয় করে মাঠ ছেড়েছে টিম ইন্ডিয়া। তারা জিতেছে চার উইকেটে।
১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটে নামার পর প্রথম থেকেই পাল্লা ভারি ছিল পাকিস্তানের দিকে। তবে ম্যাচের সময় যতো গড়াতে থাকে ততই আলগা হতে থাকে পাকিস্তানের পাল্লা।
শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। বিরাট কোহলি দৃঢ়তায় সে জয় তুলে নেয় ভারত।
শেষ ওভারে করা নওয়াজের প্রথম বলেই মিস টাইমিংয়ে ক্যাচ আউট হন হার্দিক পাণ্ডিয়া। পরে দিনেশ কার্তিক এক রান নিয়ে কোহলিকে স্ট্রাইক দেন।
এর তৃতীয় বলে কোহলি দুই রান নেন। চতুর্থ বলটি হাই ফুলটস দেন নেওয়াজ। আম্পায়ারের নো বল কলা করা সেই বলটিতে ছক্কা হাঁকানা কোহলি। এর পরের বল ওয়াইড হয়। ফলে ফ্রি হিট থেকে যায়। চতুর্থ বলে কোহলি বোল্ড আউট হলেও নেন তিন রান।
নাটক সেখানেও শেষ হয়নি, শেষের আগের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরলেন দিনেশ কার্তিক। শেষ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল দুই রান। নওয়াজ আরও একটি ওয়াইড বল করেন। আর বাকি থাকে এক রান। নতুন ব্যাটার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ব্যাটে আসে জয়ের রানটি।
ম্যাচ শেষে বিরাট কোহলি অপরাজিত থাকেন ৮২ রানে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন হার্দিক পাণ্ডিয়া (৪০)।
পাকিস্তানের বোলাদের মধ্যে হারিছ রউফ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ দুটি করে উইকেট নেন। অপর উইকেটটি নেন নাসিম শাহ।
ম্যাচ সেরা হয়েছেন বিরাট কোহলি।
১৫ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ ১০০
পাকিস্তানের দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ভারত শুরুর চাপ খানিকটা সামলে উঠেছে। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারানোর পর টপ অর্ডারে বড়ো বিপর্যয় হয়েছে দলটির।
ওপেনার রোহিত (৪), রাহুলের (৪) পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের স্যানসেশন সূর্য কুমার যাদবকে (১৫) হারিয়ে রীতিমতো ব্যাট ফুটে টিম ইন্ডিয়া।
যাদবের বিদায় হতে না হতেই রান আউটে কাটা পড়েনে আরেক অলরাউন্ডার আক্সার প্যাটেল (২)।
যদি একপাশ আগলে ঠোকাঠুকি করছেন বিরাট কোহলি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৬ বল খেলে তার সংগ্রহ ৪১।
তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন ভারতীয় আরেক অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া। তিনি অপরাজিত আছেন ৩১ রানে।
শুরুতেই রোহিত-রাহুল-সূর্য কুমারকে হারালো ভারত
ওপেনার লোকেশ রাহুলের (৪) পর প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন কাপ্তান রোহিত শর্মাও (৪)। এরপর সাজঘরে ফেরেন ছন্দে ফিরতে শুরু করা সূর্য কুমার যাদব।
শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম ওভারে পাঁচ রানের পর বল হাতে নিয়েই উইকেট তুলে নেন নাসিম শাহ। লোকেশ রাহুল (৪) তার দারুণ এক ডেলিভারিতে ইনসাইডেজ হয়ে বোল্ড।
এর এক ওভার পর হারিস রউফ ফেরান ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে। ডানহাতি এই পেসারের ১৪৫ কিলোমিটারের বলে ব্যাট ছুঁইয়ে স্লিপে ক্যাচ হন তিনি (৪)।
বর্তমানে ব্যাট করছেন বিরাট কোহলি (৩) ও আক্সার প্যাটেল।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতে সংগ্রহ পাঁচ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ২৬ রান।
ভারতকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান
শুরুতেই পাক ওপেনার বাবর-রিজওয়ানের বিদায়, পরে শান-মাসুদে খানিকটা প্রতিরোধ, এরপর মির্ডল অর্ডারে আবারও ধস- সব মিলিয়ে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে ভারতকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান। আর এই ১৫৯ রান তুলতে পাকিস্তানের খরচ হয় আট উইকেট।
মেলবোর্নে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটার আমন্ত্রণ জানান রোহিত শর্মা।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে হতাশ হয় পাক শিবির। তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যাটারের একজন বাবর আযম ফেরেন শূন্য রানে। আরেকজন মোহাম্মদ রিজওয়ান ফেরেন মাত্র চার রান করে।
এরপর ইফতেখার আহমেদ ৫১ রানে আউট হলেও ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন শান মাসুদ।
তাদের পর মাত্র একজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন। তিনি হলেন বামহাতি পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (১৬)।
ভারতীয় বোলাররা এদিন উজ্জ্বল ছিলেন। ভুবনেশ্বর কুমার একটি উইকেট পেলেও চার ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২২ রান।
অন্যদিকে পাকিস্তানের শুরুতে পতন ঘটনাতে আর্শদীপ সিং নিয়েছেন তিনটি এবং পাক মিডল অর্ডারে ধস নামানো হার্দিক পাণ্ডিয়া নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।
আরেকটি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সামি।
পাক মিডল অর্ডারে হার্দিকের একের পর এক আঘাত
ওপেনিংয়ে বিপর্যয়ের ধাক্কা খানিকটা কাটিয়ে উঠেছিলেন শান-ইফতেখার জুটি। এমন চাপের মধ্যেও ভারতীয় বোলারদের ওপর তেড়েফেরে ব্যাট চালিয়েছেন ইফতেখার। সামলেন নেন শুরু চাপ।
তবে ইফতেখারের প্যাভিলিয়নের ফেরার পর আবারও খেই হারায় পাকিস্তান। সাদাব, হায়দার আলী, নওয়াজকে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে দেননি ভারতীয় পেসার হার্দিক পাণ্ডিয়া। তার স্পেলে পাক মিডল অর্ডারে রীতিমত ধস নামান তিনি।
এদিকে হার্দিকের সঙ্গে ভারতীয় কাপ্তান আর্শদীপকে আবারও আক্রমণে আনেন। আর এসেই তিনি উদযাপন করেন, প্যাভিলিয়নে ফেরান আসিফ আলীকে (২)।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৮ দশমিক তিন ওভারে ১৪৩ রান।
শান-ইফতেখারের প্রতিরোধের পর আবারও ধস
শুরুতেই দুই ওপেনার বাবর আযম ও রিজওয়ানের সাজঘরে ফেরার পর কিছুটা কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিন ও চার নম্বরের নামা শান মাসুদ ও ইফতেখার আহমেদ।
২৭ বল মোকাবেলায় ৩০ রানে অপরাজিত আছেন শান। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি চারের মার।
অপরদিকে ভারতীয় বোলাদের ওপর বেশখানিকটা চড়াও হয়েই রান তুলে চলেছেন ইফতেখার। ৩৪ বলে ৫১ রান তুলেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে দুইট চার ও চারটি ছক্কা।
তবে ইফতেখারের ইনিংসটি আর লম্বা হতে দেননি ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সামি। এই ডানহাতি ব্যাটারকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান।
অবশ্য ততক্ষণে বাবার-রিজওয়ানকে হারিয়ে সাময়িক চাপ অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে পাকিস্তান।
এদিকে ইফতেখারের বিদায়ের পর ব্যাট করতে আসেন সাদাব খান। মাত্র ছয় বল মোকাবেলা করতেই হার্দিক পাণ্ডিয়ার শিকার হন সাদাব (৫)।
এই চাপের মধ্যে ব্যাট করতে আসেন হায়দার আলী। তিনিও হতাশ করেন পাক শিবিরকে। মাত্র চার বল মোকাবেলা করে দুই রানের মাথায় তিনিও শিকার হন হার্দিকের।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৫ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১০৬ রান। ইতিমধ্যে তাদের খোয়া গেছে পাঁচটি উইকেট।
শুরুতেই ধাক্কা, শূন্য রানে বাবরের পর ফিরলেন রিজওয়ান
মেলবর্নে শুরুটা ভালো না পাকিস্তানের। টান টান উত্তেজনা ও মর্যাদার এ ম্যাচে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান।
প্রথম ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ হয় এক রান। তবে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই পাক কাপ্তান বাবর আযমকে (০) এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে ভারতীয় পেসার আর্শদীপ সিং। এতে গোন্ডেন ডাক হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এদিকে খেলার তিন ওভারে শেষ বলে সেই আর্শদীপের বলে ভুবনেশ্বরের হাতে ধরা পড়েন পাক উইকেট রক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৪)।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাঁচ দশমিক তিন ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দুই উইকেটে ২৮।
টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের সুপার ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
দুই চিরশক্রুর খেলা দেখতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হাজির হয়েছেন লাখো সমর্থক। সেখানের আবহাওয়া আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও সেভাবে বৃষ্টির দেখা মেলেনি।
এমনকী রোদের দেখাও মিলেছে মেলবোর্নের আকাশে। ফলে টেসে জিতে গতিময় এমসিজির উইকেটে রোহিত কেন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
একাত্তর/এসি