খেলা শেষ করতে ডেনমার্ককে বাধ্য করা হয়েছিলো!

ক্রিশ্চিয়ান এরিকসনের মাঠে লুটিয়ে পড়ার ম্যাচ শেষ করা নিয়ে বেজায় চটেছিলেন ডেনমার্কের সাবেক ফুটবলাররা। এবার বোমা ফাটালেন ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেল।

তিনি বলেছেন, পরিত্যক্ত ঘোষণার ঘণ্টা খানেক পর আবার ম্যাচ শুরু করা ছাড়া ডেনমার্কের সামনে বিকল্প কোন পথ খোলা ছিলো না। 

স্মাইকেল দাবি করেছেন, খেলা শুরু করতে অস্বীকৃতি জানালে ডেনমার্ককে ৩-০ গোলের হার দেখিয়ে তিন পয়েন্ট কেড়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলো উয়েফা। 

ইউরোর বি-গ্রুপে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ডেনমার্কের খেলা চলার সময় ৪১ মিনিটে এরিকসেন মাঠে লুটিয়ে পড়লে, স্থগিত হয়ে যায় ম্যাচটি।

মাঠেই সিপিআর দেওয়া হয় এরিকসনকে। এরপর নেয়া হয় হাসপাতালে। কিছুক্ষণ পর উয়েফা ঘোষণা দেয়, দুই দলের অনুরোধে ম্যাচটি আবারো শুরু হচ্ছে। ম্যাচে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ডেনমার্ককে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হারায় ফিনল্যান্ড।

উয়েফার এক বিবৃতিতে জানায়, উভয় দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে সেদিনই ম্যাচ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেদনিই তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় স্মাইকেল ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ডেনমার্কে সহানুভুতির চোখে দেখেনি উয়েফা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক গোলরক্ষক ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ নামের এক পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, দলকে ওই রাতেই কিংবা পরদিন দুপুরে ম্যাচের বাকি অংশ শেষ করার একটিকে বেছে নেয়ার পাশাপাশি ম্যাচ না হলে পয়েন্ট কেড়ে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়। তিনি দাবি করেন, ম্যাচ শুরু করতে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছিলো। 

উয়েফার এম আচরন যৌক্তিক কিনা, এমন প্রশ্ন তুলে স্মাইকেল বলেন, “এই অবস্থায় ডেনমার্কের খোলোয়াড়দের মাঠে ফেরা ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলো না”।

তিনি জানান, ম্যাচটি যে আবারো শুরু করা ঠিক হয়নি, সেটি ম্যাচ শেষে ড্যানিশ কোচের প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। 

দলটির কোচ হিউলমান্দ সেদিন বলেছিলেন, “এরিকসেনের ঘটনার পর খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা যা হয়েছিলো তাতে একটি ম্যাচ খেলতে পারা যায় না। কিন্তু ম্যাচ না খেললেও কোনো খেলোয়াড়ই বাড়িতে যেতে পারত না। তারা ঘুমাতেও পারত না”। 

তিনি এমন দাবিও করেন, খেলোয়াড়দেরকে কোন একটি অপশন বেছে নিতে বলাটাই উয়েফার বড় ভুল সিদ্বান্ত ছিলো। বিষয়টি দলের জন্য খুব কঠিক ছিলো। 


একাত্তর/এসএ