বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত টিম টাইগার্স। একের পর এক সিরিজে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে টাইগাররা। বরাবরের মত দলে অভাব একজন লেগ স্পিনারের। অথচ বিশ্বকাপে সাকিব-তামিমদের সামলাতে হবে রশিদ, জাম্পাদের মতো বিশ্বমানের লেগিদের।
চেমসফোর্ডের আকাশে ঘন কালো মেঘ আর সবুজের সমাহার। সবুজে যেমন চোখ জুড়ায় তেমনি ঘন কালো মেঘ শংকা জাগিয়েছে টাইগার শিবিরে। ওয়ানডে ম্যাচগুলো ঠিক ঠাক মাঠে গড়াবে তো! বিশ্বকাপের প্রিপারেশন নিতেই যে বিলেতে পাড়ি জমানো।
শংকা আছে আরও একটা, ভিন্ন কন্ডিশনে সবরকম প্রস্তুতি সারলেও লেগস্পিনটা থেকে যাবে বাকি। স্কোয়াডে নেই যে কোনো লেগি। অথচ বিশ্বকাপে রশিদ খান- জাম্পাদের মত লেগিদের যে খেলতেই হবে।
চার বছর আগে এভাবেই নিজের প্ল্যান নিয়ে খেলাযোগের কাছে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন রিশাদ হাসান। এই বছর গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন স্বপ্নের লাল সবুজ জার্সিটাও। তাইতো সতীর্থদের এমন অভিনন্দন।
তবে ভবিষ্যতে কতদুর যেতে পারবেন তা নিয়ে শংকা থেকেই যায়। কেননা আমিনুল বিপ্লব ও জুবায়ের লিখনরাও টিকতে পারেনি বেশিদিন। রিশাদের কপালে জুটেছে মাত্র ১টি টি-টোয়েন্টি।
অনেকটাই অনুমেয় যে, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হবে না রিশাদের। তাহলে কিভাবে রাশিদ-চাহালদের মতো স্পিনারদের সামলাবে সাকিব তামিমরা? অনুশীলনে খেলবে কার বল? এই উত্তর খোঁজার আগে খোঁজা যাক দলের অন্যতম চার ব্যাটার লেগিদের বিপক্ষে খেলেন কেমন?
রাশিদ খান, এ্যাডাম জাম্পা, হাসারাঙ্গা, চাহাল ও আদিল রশিদ এই ৫ জন এই সময়ের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার। তাদের বলে কেমন খেলেছে তাই দেয়া আছে পরিসংখ্যানে।
টাইগার কাপ্তান তামিম ইকবাল স্পিনটা মন্দ খেলেননা। তবে লেগস্পিনে যেন একটু বেশি ডট খেলেন। গেলো ৭ বছরে এই পাঁচজনের বিপক্ষে ৮০টা বল খেলেছেন খান সাহেব। রান করেছেন ৫৪। উইকেট দিয়েছেন একবার। তবে ৫০ শতাংশ বলই খেলেছেন ডট।
লিটন দাস, নিঃসন্দেহে এখন দলের সেরা ব্যাটার। গেলো চার বছরে এই লেগিদের বিপক্ষে ৯৩ বল খেলে করেছেন ৭৭ রান। আউট হয়েছেন ২বার। তবে ৯৩ বলের ৫০টাই খেলেছেন ডট।
বিশ্বসেরা সাকিব যেন চেনা রূপেই। গেলো সাত বছরে ১৪৭ বল ফেস করে উইলোতে নিয়েছেন ১৩৩ রান। ডট খেলেছেন ৫৭টা। আউট হয়েছেন তিন বার। স্ট্রাইকরেটটাও ঠিকঠাক।
মুশফিক যেনো সবার ওপরে। এই পাঁচজনের বিপক্ষে গেলো সাত বছরে ২৭৫টি বল খেলেছেন। রান করেছেন ২৬৭। স্ট্রাইক রেট ১০০ প্লাস। আউট হয়েছেন ৭ বার। ডট বলের সংখ্যাটা ১০০।
আশংকার নাম ডট বল। তার চেয়ে বড় কথা লেগিরা টাইগারদের বিপক্ষে ইমপ্যাক্ট রাখে দারুন। সদ্য শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সিরিজে আদিশ রশিদ একাই ২ ম্যাচে নিয়েছেন ছয় উইকেট। তাতেই ভেঙে পড়েছিল টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপ। শংকাটা সেখানেও। তাই ওয়ার্ল্ড কাপে এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে হাথুরুকে। নইলে বিশ্বকাপে বিবর্ণ হবে রঙিন স্বপ্ন।
একাত্তর/এসি