রোনালদোর পথ অনুসরণ করে সৌদির পতাকাতলে দলে দলে সবাই

ফর্মে নেই, পেনাল্টি ছাড়া ইদানিং গোলও করতে পারছেন না। কিন্তু কেন যেন ঘুরেফিরে ওই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেখানো পথেই হাঁটছে ফুটবলের অনেক রথী-মহারথী। কয়দিন আগে শেষ হওয়া ট্রান্সফার উইন্ডোতে তারকারা দলে দলে যোগ দিয়েছে সৌদি ক্লাবে। এর পেছনে কাজ করেছে কোনটা? মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রো ডলার? নাকি রোনালদো এফেক্ট?

ইউরোপিয়ান ট্রান্সফার মার্কেটে বেশ আগেই আগুন ধরিয়েছে পেট্রোলিয়াম থেকে আসা ডলার। তবে এবারে যেটা হলো সেটা রীতিমতো বিস্ফোরণ।

কদিন আগে মোহামেদ সালাকে নিয়ে বেশ নাটক হয়ে গেলো। ব্রিটিশ মুদ্রায় ২০০ মিলিয়ন দিয়ে তাকে নিতে চেয়েছিল সৌদি ক্লাব, এমন খবর রটেছিল বাজারে। কিন্তু লিভারপুল ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ প্রান্তে এসে কোনো রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাচ্ছিলো না, তাই সালার আর যাওয়া হয়নি সৌদিতে।

সালার ট্রান্সফার আপাতত না হলেও সৌদি প্রো লিগ এবারে কম ঝলক দেখায়নি। নেইমার জুনিয়র চলে এসেছেন আল হিলালে, কারিম বেনজেমা যোগ দিয়েছেন আল ইতিহাদে। একই ক্লাবে এসেছেন এনগোলো কন্তেও। আল নাসরে নাম লিখিয়েছেন সাদিও মানে।

আর এই যে সবার দলে দলে সৌদি প্রো লিগের পতাকাতলে যোগ দেয়ার মিছিল সেটার ডাক দিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বহু ঘাটের জল খাওয়া সিআর সেভেন মরুর বুকে এসে বলেছিলেন অনেক হাই প্রোফাইল প্লেয়ারই আসবে এখানে এবং এই উট-খেজুরের দেশেই ফুটবলের নতুন গল্প লেখা হবে।

এখন পর্যন্ত যে আভাস, সত্যি হতে চলেছে রোনালদোর ভবিষ্যত বাণী। পর্তুগিজ তারকা আল নাসরে যোগ দেয়ার পর থেকেই এই লিগ দুনিয়া জুড়েই পাচ্ছে মিডিয়া অ্যাটেনশন। যদিও বিরোধী মতও আছে।

ইউয়েফার প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, সৌদি লিগের এই জাগরণ নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন, কারণ তেল বেচে পাওয়া মোটা টাকা সৌদি ফুটবলের বৃদ্ধাশ্রম তৈরিতেই খরচ করছে। 

কিন্তু বাস্তবতা হলো, কেবল ফুটবল ঐতিহ্য নয়, পেট্রো ডলারও টানতে পারে তরুণদের। আর সেটার প্রমাণও মিলেছে এবারের ট্রান্সফার উইন্ডোতে। সারা দুনিয়ার ভেতরে কেবল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোই বেশি খরচ করেছে প্রো লিগের দলগুলোর চেয়ে।

আর এমনটা যে হবে সেটা ইউয়েফার বিচারে সেরা কোচ পেপ গার্দিওলা অনুমান করেছিলেন বেশ আগেই। সিটি কোচ বলেছিলেন, এই প্রো লিগের ক্লাবগুলোর কারণে ট্রান্সফার মার্কেটে শিগগিরি আধিপত্য হারাবে ইউরোপিয়ান ফুটবল।

মোটা দাগে তেমন ঘটনা হয়ে গেছে বলা চলে না। কিন্তু এবার প্রো লিগে যে খেল দেখালো, আগামীতেই তেমনটা হতে শুরু করলে ইউরোপিয়ান ফুটবলের কপালে ভাঁজ পড়তেই হবে।