দীর্ঘ ১৫ বছর পর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে সাত উইকেটে পরাজিত হয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে নিউজিল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলো।
১৭২ রানের টার্গেটে ভালো শুরু পায় নিউজিল্যান্ড। ৯ ওভারে ৪৮ রান তোলেন কিউই দলের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও ইয়ং। ইনিংসের দশম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার শরিফুল ইসলাম। শর্ট বলে ডিপ মিড উইকেটে নাসুমকে ক্যাচ দিয়ে শরিফুলের শিকার হন ছয়টি চারে ২৮ রান করা অ্যালেন।
অ্যালেনের বিদায়ে উইকেটে এসে প্রথম বলেই অভিষিক্ত ডিন ফক্সক্রফটের উইকেট উপড়ে ফেলেন শরিফুল। অভিষেকেই গোল্ডেন ডাক পাওয়া পঞ্চম নিউজিল্যান্ড ব্যাটার এখন তিনি।
পরপর দুই বলে অ্যালেন ও ফক্সক্রফটকে শিকার করে হ্যাট্টিকের সুযোগ তৈরি করেন শরিফুল। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি টাইগার পেসারের।
৪৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নিউজিল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরান ইয়ং ও নিকোলস। ২৫তম ওভারে ওয়ানডেতে পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি করেন ইয়ং।
৩০তম ওভারের প্রথম বলে ইয়ংকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন স্পিনার নাসুম। আউট হওয়ার আগে ১০টি চার ও এক ছক্কায় ৮০ বলে ৭০ রান করেন ইয়ং। তৃতীয় উইকেটে ১১৮ বলে ৮১ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ডের জয়ের পথ সহজ করেন তারা।
চতুর্থ উইকেটে ৩৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪১ রান তুলে ৯১ বল হাতে রেখে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন নিকোলস ও উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেল। ওয়ানডেতে ১৪তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন নিকোলস। ৮৬ বল খেলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন নিকোলস।
১৬ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন ব্লান্ডেল। বাংলাদেশের শরিফুল দুইটি ও নাসুম একটি উইকেট নেন।
প্লেয়ার অব দ্য মাচ হয়েছেন উইল ইয়ং এবং প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হয়েছেন হেনরি নিকোলস।
ব্যাটিং পরীক্ষায় ফেল বাংলাদেশ, কিউইদের লক্ষ্য ১৭২
বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজকে রীতিমতো পরীক্ষা-নীরিক্ষা হিসেবেই নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও বাকি দুটি ম্যাচ হিসেব করলে সেই পরীক্ষা-নীরিক্ষায় ফেলই বলা যায়।
মিরপুর তৃতীয় ওয়ানডেতে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম পাওয়ার প্লেতেই হারায় তিন টপ অর্ডারকে। এদিন সবচেয়ে নবীন থেকে সবচেয়ে প্রবীণ, সব ব্যাটারাই হতাশ করেছেন। শুধু বুক চিতিয়ে লড়ে গেছে অধিনায়ক ও সদ্য ইঞ্জুরি থেকে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্ত (৭৬)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করেছেন মাহমুদুল্লা ২১। তারপর রয়েছেন হৃদয় ও মুশফিক ১৮ রান করে। বাকি ছয় জন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। ইনিংস শেষে বাংলাদেশের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ১৭১। ১৫ দশমিক তিন ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হয় শান্ত বাহিনী।
এদিন নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অ্যাডাম মিলনে। তিনি ছয় দশমিক তিন ওভার বল করে নিয়েছেন চারটি উইকেট।
এছাড়া বোল্ট, ম্যাকোনচি দুটি করে, রবীন্দ্র ও ম্যাকোনচি একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
শান্তর রণে ভঙ্গ
টস জিতে ব্যাট করতে নামার এক দশমিক তিন ওভার পর ব্যাট করতে এসেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত। এক পাশ আগলে সচল রেখেছিলেন রানের চাকা। এরই মধ্যে সাজঘরে ফেরত যেতে দেখেছেন পাঁচ টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটারকে। নিউজিল্যান্ডের গতি যখন চোখ রাঙাচ্ছে, তখন সেই চোখে চোখ রেখেই লড়ছিলেন তিনি। অবশেষে রণে ভঙ্গ। ৩১ দশমিক দুই ওভারে ম্যাকোনচিকে রিভার্স ফুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। আম্পায়র কলে আউট দিলে রিভিউ করেও তা আর রক্ষা হয়নি।
এদিন ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি তুলে নেওয়া এই ব্যাটার ৮৪ বল খেলে করেছেন ৭৬ রান। তার মধ্যে বাউন্ডারি ছিল ১০টি।
এদিকে শান্ত ফিরতে না ফিরতেই সাজঘরে ফিরেছেন সদ্য ব্যাট করতে আসা হাসান মাহমুদ (১)। রবীন্দ্রর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৩ দশমিক এক ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান।
টিকলেন না অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও
টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার, একে একে যখন সবাই আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন, তখন শেষ ভরসা ছিলেন অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শান্তর সঙ্গে একটু একটু করে আগাচ্ছিলো তার পার্টনার শিপও। আশা করা যাচ্ছিলো- এই জুটি হয়তো সম্মানজনক কোনো স্কোর গড়বে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি।
মুশফিকের বিদায়ের ৯ ওভার পরই অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ২৪ দশমিক এক ওভারে মিলনের বলে ব্লুন্ডেলের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ২৭ বল খেলে তিনি করেন ২১ রান।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান। শান্ত ৬৭ রানে ও মাহাদী আট রানে ব্যাট করছেন। টেল এন্ডে রয়েছেন নাসুম, হাসান, শরিফুল ও খালেদ।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে শান্তর ফিফটি
প্রথম পাওয়ার পেলেতে তিন উইকেটের পতন, হৃদয় কে প্রতিরোধের চেষ্টা, মুশফিকের দুর্ভাগ্যজনক আউট; সব মিলিয়ে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট করতে নেমেই ধুঁকছিল বাংলাদেশ।
তবে এতো কিছুর মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন ইঞ্জুরি থেকে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যাচের গুরুদায়িত্ব নেওয়া শান্ত এদিন তার ওপর অর্পিত দায়িত্বও পালন করে চলেছেন নিয়ম মেনে।
এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। বাহাতি এই ব্যাটার অপরাজিত আছেন ৫১ রানে। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১ দশমিক চার ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান।
কিউই গতিতে দুর্গতি সামলে ভাগ্যহত হলেন মুশফিক
প্রথম পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া বাংলাদেশ টেনে তুলছেন শান্ত ও মুশফিক। এরই মধ্যে ৫৩ রানের জুটিও গড়েন তারা। পাঁচ দশমিক তিন ওভারে হৃদয়ের বিদায়ের পর মাঠে আসেন মুশফিক।
১৫ দশমিক এক ওভারে ফার্গুসেনের একটি ডেলিভারি ডাক করতে গিয়ে বল গড়িয়ে গিয়ে স্ট্যাম্পে লাগে। যেতে যেতে ২৫ বল খেলে দুটি ছক্কায় করেন ১৮ রান।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৬ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ৯২ রান। শান্ত ৪১ ও মাহমুদুল্লা এক রানে ব্যাট করছেন
শুরুতেই খেই হারালো বাংলাদেশ
সিরিজের সমতা ফেরার লড়াইয়ে শুরুতেই খেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটে নেমে এক দশমিক তিন ওভারেই অভিষেক হওয়া জাকির হোসেনের উইকেট হারায় শান্তর দল। মিলনের করা অফ স্ট্যাম্পের ওপর ইয়রকার লেন্থের একটি ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন জাকির (১)। পরের উইকেট পতনের জন্যও অবশ্য বেশি দেরি করতে হয়নি। জাকিরের বিদায়ের চার বল পরই বোল্টের বলে খোঁচা দিয়ে সিলপে ধরা পড়েন তানজিদ (৫)। বাংলাদেশের স্কোর তখন আট রানে দুই উইকেট।
এরপর ব্যাট করতে আসেন তৌহিদ হৃদয়। এদিন হৃদয়কে কিছুটা ক্ষ্যাপাটে মনে হলেও রান পাচ্ছিলেন। তবে সেই মিলনের বলে সজোরে কাভার ড্রাইভ করতে গিয়ে ইয়ংয়ের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১৭ বল খেলে তিন বাউন্ডারিতে হৃদয় করে ১৮ রান। বর্তমানে শান্ত ও মুশফিক ব্যাট করছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ৬২ রান। শান্ত ৩১ ও মুশফিক ১ রানে ব্যাট করছেন
কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচাতে ব্যাটিং বাংলাদেশ
২০১০ সালের পর থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সবসময়ই এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার এর ব্যত্যয় ঘটেছে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দ্বিতীয়টিতে হেরে ব্যাকফুটে টাইগার বাহিনী। তাই তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জন্য সিরিজ নির্ধারণী হলেও বাংলাদেশের জন্য সমতার লড়াই। আর বিশ্বকাপে খেলার আগে উভয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য এটাই শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
এদিকে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দলে বেশ পরিবর্তন এসেছে। লিটন ও তামিমের না থাকাতে অধিনায়ক হয়ে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় মিরপুর টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি জানান, আজকের ম্যাচে অভিষেক হতে যাচ্ছে জাকির হোসেনের।
বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, জাকির হোসেন, মাহাদী হাসান, নাসুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, খালেদা আহমেদ।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: ফিন অ্যালেন, উইল ইয়ং, ডেন ফক্সক্রফট, হেনরি নিকোলস, টম ব্লুন্ডেল, রাচিন রবীন্দ্র, কোল ম্যাকোনজি, ইশান্ত সোধী, অ্যাডাম মিলনে, লুকি ফার্গুসেন (অধিনায়ক), ট্রেন্ট বোল্ট।