ফাইনালেই মেসির সঙ্গে বন্ধুত্বের শেষ দেখছেন নেইমার!

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণের বাইরে আরো এক মহারণ তাতিয়ে উঠছে। মেসি বনাম নেইমার লড়াই। মারকানা স্টেডিয়ামে এই মহাতারকার টক্কর দেখার অপেক্ষায় সবাই।

তবে কোপার ফাইনাল মাঠে গড়ানোর আগেই মেসি-নেইমার লড়াই স্পোর্টস দুনিয়ার শিরোনাম জুড়ে আছে। নানা ভাষায় আর পরিবেশনায়, রঙ চড়াচ্ছে এই দু’জনের দ্বৈরথকে।

মেসি ফাইনাল নিয়ে মুখে কুলপ আটকালেও, নেইমার গত কয়েক দিন ধরেই মিডিয়াতে নানা কথাই বলে বেড়াচ্ছেন। যা মুহূর্তেই ভাইরাস হচ্ছে ভক্তদের মধ্যে।

সবশেষ নেইমার স্বীকার করে নিয়েছেন, কোপার ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচেই মেসির সঙ্গে দীর্ঘ দিনের বন্ধত্বের ইতি দেখতে পাচ্ছেন তিনি।

লা লিগাতে বার্সেলোনায় হয়ে খেলার সময় মেসির সঙ্গে নেইমারের এক দারুণ বন্ধত্ব গড়ে উঠে। যার কারণে ক্লাব ফুটবল দেখেছিলো সবচেয়ে ভয়ংকর এক আক্রমণভাগ। 

রেকর্ড ১৯৮ মিলিয়র পাউন্ডে ন্যূ ক্যাম্প ছেড়ে প্যারিসের পার্ক দো প্রিন্সেসে চলে যাবার পরও নেইমারের সঙ্গে মেসির বন্ধুত্বে একফোঁটাও চিঁড়ও ধরেনি। 

২৯ বছরের নেইমার জানালেন, মারকানায় মেসির বিপক্ষে মাঠে নামার সময় তাদের বন্ধুত্বের কোন প্রভাব ফেলবে। কারণ, মাঠের মধ্যে আবেগকে প্রশয় দেয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়েই বলে আসছি, মেসি আমার দেখা সবচেয়ে সেরা ফুটবলার। এবং বন্ধু হিসাবেও সে চমৎকার। কিন্তু সেই আমরাই এখন ফাইনালে, একে অপরের প্রতিপক্ষ’।

নেইমার আরো বলেন, ‘আমি শিরোপা জিততে চাই। যা হবে আমার প্রথম কোপা আমেরিকার শিরোপা। মেসিও অনেক বছর ধরে আর্জেন্টিনার হয়ে শিরোপা জয়ের জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। যখনই আমি তার মাঠের প্রতিপক্ষ নই, তখনই তাঁকে ও তাঁর দলকে সমর্থন করেছি। এমনি ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালেও আমি মেসির জন্য আর্জেন্টিনার পক্ষে চিৎকার করেছি’।


পিএসজি তারকা জানান, সময়ের বিচারে তারা এখন একে অপরের প্রতিপক্ষ। ফলে তাদের বন্ধুত্বও এখন খাদের কিনারে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও, শিরোপা জিতবে একটি দল। 

নেইমার বলেন, ‘যখন কারো সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব হয়, তখন আপনি সেটা ভুলে থাকতে পারবেন না। এড়িয়েও যেতে পারবেন না। কিন্তু সেই বন্ধুর সঙ্গে আপনি যখন ভিডিও গেম খেলেন, তখন তো তাকে হারাতেই চাইবেন। কোপার ফাইনালও ঠিক তেমনই’। 

হাঁটুর ইনজুরির কারণে গেলবারের ফাইনাল খেলতে পারেননি নেইমার। আর মেসি ২০০৮, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ফাইনাল খেললেও প্রতিবারেই ব্যর্থ হয়েছেন শিরোপা জিততে।


একাত্তর/এসএ