এবার ইংল্যান্ড-ইতালি মহারণ

আর্জেন্টিনার শ্রেষ্ঠত্বে কোপা আমেরিকার পর্দা নেমেছে। রাতে আরেক মহারণ। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের গ্র্যান্ড ফাইনাল। প্রথমবার ফাইনালে ওঠা সাউথগেটের ইংল্যান্ডের সামনে প্রতিপক্ষ মানচিনির ইতালি। 

১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জেতার ৫৫ বছর পর কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে ইংলিশরা। আর চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি পুনরুদ্ধার করতে চায় হারানো গৌরব। থ্রি লায়নরা বলছে, 'ইটস কামিং হোম'। ইতালিয়ানরা বলছে, 'ইটস গোয়িং টু রোম'। ওয়েম্বলিতে সোমবার (১২ জুলাই) রাত ১টায় শুরু হবে ফাইনাল। 

স্বপ্নের ঠিকানায় ছুটছেন কিয়েলিনি। দুই প্রজন্মের আশা একই বিন্দু। ফের আলোর রেখা ইতালির ফুটবলে। ঘোরলাগা এই সময়ের কাছে স্বপ্ন নয় কিছু। আজ্জুরিরা তো বলেই দিয়েছে, 'উই আর রেডি টু ডাই'। উৎসবের জন্য ডাকছে ওরা। বিশ্বাসটাও দৃঢ় হয়েছে। আর তাই ইতালিয়ান সমর্থকরা বলছে ইটস গোয়িং টু রোম।

আরও পড়ুন: দি মারিয়ায় মেসির স্বপ্নপূরণ

ইংলিশদের কাঁধেও আছে ভরসার হাত। ওয়েম্বলির এই পথে হেঁটে ওরা তৈরি করতে চায় ইতিহাস। সাফল্যকে পাখির চোখ করেছেন গ্যারেথ সাউথগেট। মাঠে হ্যারিদের দাপট। রাণীর দেশে কান পাতলে শোনা যায়, 'ইটস কামিং হোম'। 

তবে, ইংরেজদের স্বপ্নটা ভেঙ্গে যেতে পারে চতুর মানচিনির চালে। ইতালি এবারের আসরের সবচেয়ে স্মার্ট দল। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ওদের পরিকল্পনা বদলে ফেলে। ফাইনালে ওঠার পথে এ পর্যন্ত ১২টি গোল করেছে ইতালি। টিপিক্যাল ইতালি টিমের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছে আজ্জুরিরা। বেলজিয়াম-স্পেনের বাধা টপকে ওদের চোখ এখন শিরোপায়। 

এদিকে ইংল্যান্ড চায় মহাকাব্য রচনা করতে। তাদের প্রতিটা ম্যাচেই আছে উন্নতির ছোঁয়া। থ্রি-লায়নদের সংকল্পে থেমেছে ডেনিশ রূপকথা। 


প্রথমবার ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের আলোয় জ্বলেছেন রাহিম স্টার্লিং। ওদের নিয়েই ইতালির ভয়। 

তবে, আজ্জুরিদের ভান্ডারেও রসদের অভাব নাই। ইনসিনিয়ে-ইমোবিলে-কিয়েসা; বিগ ম্যাচের প্লেয়ার। উৎসবের জন্য বড় মঞ্চকেই বেছে নেন। 

ইতালি টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত। ইংল্যান্ডের সাথে পরিসংখ্যানটাও ভালো। মেজর টুর্নামেন্টে ওদের সাথে কখনোই হারেনি। 

ইংল্যান্ডের ৫৫ বছরের অপেক্ষার কি অবসান হবে? নাকি রাণীর দেশে ইতালিই হবে ইউরোপের নতুন রাজা?


একাত্তর/এসজে