বিশ্ব ফুটবলের দুই
শীর্ষ তারাকা লায়োনেল মেসি আর নেইমারের মধ্যে বন্ধুত্বের কথা তাবৎ দুনিয়া জানে। বার্সেলোনায়
খেলতে আসার পর মেসির সঙ্গে দারুণ সখ্যতা হয়ে যায় নেইমারের। যা সময়ের সঙ্গে আরো গভীর
হয়েছে।
তাদের সম্পর্ক একটাই গভীর ছিলো যে, নেইমার যখন রেকর্ড ট্রান্সফার ফি নিয়ে পিএসজিতে চলে যান, তখন থেকেই শোনা যাচ্ছিলো, দুই বন্ধু বেশি দিন দূরে থাকতে পারবেন না। হয় মেসি আসবেন পিএসজিতে, না হয় আবারো বার্সেলোনায় ফিরে যাবেন নেইমার। আর, সেই চেষ্টা কিন্তু চলেছে অনেকবার।
শেষ পর্যন্ত প্রথম সম্ভাবনাই সত্যি হলো। বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্প থেকে মেসির ঠিকানা এখন প্যারিসের প্রিন্সেস পার্কে। যেখানে এখন রীতিমতো অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন ছয়বারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় মেসি।
যেমনটা ভাবা হয়েছিলো, পিএসজির অনুশীলনে সেই দৃশ্যই চোখে পড়েছে সবার। গোটা অনুশীলনে দুই বন্ধু মেসি ও নেইমারকে এক মুহূর্তের জন্য আলাদা হতে দেখা যায়নি। যেহেতু দুজনেই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়, তাই অনুশীলনের ধরনও এক। সে কারণে কেনই বা তারা আলাদা বা দূরে দূরে থাকবেন।
শুক্রবার, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রিন্সেস পার্কে তৃতীয় দিনের মতো অনুশীলনে যোগ দেন মেসি। তবে এদিনের অনুশীলন ছিলো সবার জন্য উম্মুক্ত। অর্থাৎ, মিডিয়া ও সমর্থক, সবার সুযোগ ছিলো পিএসজির অনুশীলন দেখার।
শনিবার ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে স্ট্রাসবোর্গের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিনের এই অনুশীলনের সারা সময়ই মেসির সঙ্গে লেপ্টে ছিলেন নেইমার। এক মুহূর্তের জন্য দু’জনকে আলাদা দেখা যায়নি। আর এভাবে লিগ ম্যাচেও দু’জনকে দেখা যাবে, যার জন্য অপেক্ষা করছে পিএসজির সমর্থক ও গোটা ফুটবল বিশ্ব।
তবে, স্ট্রাসবোর্গের বিপক্ষে মেসির খেলা হচ্ছে না। তারপরও পিএসজির পুরো অনুশীলনেই নেইমার ও তিন স্বদেশী আনহেল ডি মারিয়া, লিয়ানদ্রো পারেডেস এবং মাউরো ইকার্দির সঙ্গে সমানতালে অনুশীলন করে গেছেন মেসি।
অনুশীলনে সবার নজর ছিলো মেসির দিকেই। ক্যামেরার লেন্স তাড়িয়ে বেড়িয়েছে বিশ্বসেরা অনুশীলনের প্রতিটি মুহূর্তকে বন্দি করতে। সেখানেই দেখা গেলো, নেইমার প্রায় পুরো সময় বন্ধু মেসির সঙ্গে হাসিতামাশায় মেতে উঠছিলেন।
এখন সবাই অপেক্ষায় কখন এই দুই বন্ধুকে আবারো এক সঙ্গে একই দলের জার্সিতে খেলতে দেখা যাবে। তার জন্য একটু অপেক্ষা করতেই হচ্ছে মেসি ভক্তদের। কারণ, পুরো ছন্দে ফিরতে আরো কিছু সময় নেবেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
শনিবারের পর, পিএসজির পরবর্তী ম্যাচ ২০ আগস্ট ব্রিস্টের বিপক্ষে। তারপর ২৯ আগস্ট রেইমসের বিপক্ষে। এর যে কোনো এক ম্যাচেই দেখা যেতে পারে মেসিকে। আর যদি সেটি না হয় তাহলে আরো বেশ কিছু দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে পিএসজি সমর্থকদের।
একাত্তর/আরবিএস