সেদিন আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল। পঁচাত্তরের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে এমনই এক পরিবারকে হারিয়েছিলো গোটা দেশ। শুধু রাজনীতি, অর্থনীতি নয়, যারা ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের পথিকৃৎ। তাদেরই একজন সুলতানা কামাল।
দেশের সফলতম অ্যাথলিট স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অগ্রযাত্রার। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছেন সালমা, তহুরা, মাবিয়া, দিয়া সিদ্দিকিরা।
একদিন বঙ্গবন্ধু বললেন, “খুকু, তুই বাঙালির মান রাখতে পারবি তো?”
খুকী বললো, “পারবো।”
বঙ্গবন্ধু জিজ্ঞেস করলেন, “পদক তো জিতেছিস। কি চাই তোর?” খুকীর উত্তর “মেয়েদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স চাই।”
১৯৭৩ সালে অল ইন্ডিয়া রুরাল গেইমসে বিদেশের মাটিতে স্বাধীন দেশের হয়ে সুলতানা আহমেদের প্রথম পদক জয়ের গল্পটা এমনই। বয়সটা তখন মোটে ১৪। অথচ কত দূরদর্শী, কত পরিণত।
ক্রীড়াঙ্গনের অদ্বিতীয়া অ্যাথলিট- সুলতানা আহমেদ খুকী। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে যখন অন্দরমহলই নারীর একমাত্র ঠিকানা, সে সময়টাতে তার অ্যাথলেটিকসে যাত্রা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে তৎকালীন পাকিস্তান অলিম্পিকে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে স্বর্ণপদক জেতেন। ১৯৭০ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিজের রেকর্ড ভেঙে জেতেন স্বর্ণপদক। স্বাধীনতার পর টানা তিন বছর জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, ফেরেন গোল্ডেন গার্ল হয়ে।
একেই হয়তো বলে মেড ফর ইচ আদার। ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয়দর্শিনী অ্যাথলিটের সাথে গাঁটছড়া বাধেন আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের পথিকৃৎ শেখ কামাল। সুলতানা আহমেদ হয়ে গেলেন সুলতানা কামাল।
তবে হঠাৎই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো খেলাঘর। মেহেদির লাল রঙ তখনও মোছেনি। বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় পুরো পরিবারের সাথে তিনিও সামিল হন ভয়াবহ সেই অন্তিম যাত্রায়। ৩২ নম্বর বাড়িটির ইতিহাসের অংশ হয়ে যান দেশের অনেক প্রথমের সাথে জড়িয়ে থাকা সুলতানা।
সুলতানার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, নারীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুলতানা কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স। আন্তর্জাতিক আসর থেকে আজ বাংলার মেয়েরা হররোজ পদকও আনছে। শুধু নেই সবার আদরের সেই ছোট্ট খুকী।
একাত্তর/এসজে