ইংল্যান্ডের মাঠে হবে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ?

ভারত বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। আর এই সুযোগেই ক্রিকেট বিশ্বের দর্শকদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে এক দারুণ প্রস্তাব দিয়েছেন মাইকেল ভন। 

ইংল্যান্ডের এই সাবেক অধিনায়ক দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে একটি টেস্ট সিরিজ আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রায় দুই দশক পর ভারত-পাকিস্তান টেস্ট লড়াই দেখতে উন্মুখ ভন মনে করেন, এই সিরিজের জন্য আদর্শ আয়োজক হতে পারে যুক্তরাজ্য। 

পিসিবি এবং আইসিসির মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনের কয়েক ঘণ্টা পরই ভনের এই পরামর্শ এলো, যার ফলে আগামী রোববার কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের পথ পরিষ্কার হয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের খেলার ব্যাপারে তাদের সরকার সম্মতি দেয়ার পর, ভন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে লেখেন, এটি টুর্নামেন্ট এবং ক্রিকেটের জন্য চমৎকার খবর। আমাদের উচিত যে কোনো উপায়ে দ্রুত তাদের মধ্যে একটি টেস্ট সিরিজের আয়োজন করা। তিন ম্যাচের একটি সিরিজ আয়োজনের জন্য যুক্তরাজ্য দারুণ জায়গা হতে পারে।

দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গত ১৯ বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তান কোনো টেস্ট সিরিজ খেলেনি; সবশেষ সিরিজটি হয়েছিল ২০০৭ সালে। সেবার পাকিস্তান ভারত সফরে এসে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে যথাক্রমে ২-৩ এবং ০-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়। 

২০০৭ সাল ছিল টানা চতুর্থ বছর যখন ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল। এর আগে ২০০৪ সালে ১৫ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সফরে পাকিস্তানে গিয়ে ওয়ানডে ও টেস্ট উভয় সিরিজই জিতেছিল ভারত। 

পরের বছর পাকিস্তান ফিরতি সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজ ৪-২ ব্যবধানে জেতে এবং টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র হয়। ২০০৬ সালে ভারত পুনরায় পাকিস্তান সফর করে; করাচিতে ইরফান পাঠানের হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও ভারত টেস্ট সিরিজ ০-১ ব্যবধানে হারলেও যুবরাজ ও ধোনির নৈপুণ্যে ওয়ানডে সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল।

কেন এই সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ?

তবে বাস্তবতা হলো, যে কোনো ফরম্যাটে বা যে কোনো পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান সিরিজের সম্ভাবনা খুবই কম। মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও পারস্পরিক সম্পর্কে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। ২০১২-১৩ মৌসুমের পর থেকে এই দুই দেশ কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেনি এবং নিকট ভবিষ্যতে এমন কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। 

পিসিবি এবং বিসিসিআই যেহেতু একে অপরের দেশে গিয়ে খেলতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাই নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও টেস্ট সিরিজ আয়োজন করা এখন পর্যন্ত একটি অবাস্তব চিন্তামাত্র। 

২০১৯ সালের পুলওয়ামা বা গত বছরের পাহালগাম ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান সিরিজ দেখার বিষয়টি এখন কেবল স্বপ্নেই সম্ভব।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও আইসিসির হাতে ভারত-পাকিস্তান সিরিজ আয়োজনের কোনো একক ক্ষমতা নেই। কারণ, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উভয় দেশের সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এমনকি সম্প্রতি পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আইসিসির মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু আইসিসি সরাসরি তা নাকচ করে দিয়ে জানায় যে, এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয়।

রাজস্ব উৎপাদন, বিজ্ঞাপনের বাজার এবং দর্শকদের আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান লড়াই আজও ক্রিকেটের 'পরম প্রাপ্তি' হিসেবে বিবেচিত। 

নব্বইয়ের দশক বা পরবর্তী দশকেও যখন এই দুই দেশ লড়ত, রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই লড়াইয়ের উত্তেজনা টিকে থাকার একমাত্র কারণ হলো এর দুর্লভতা। 

তাছাড়া বর্তমানে দু’দেশের ক্রিকেটের মানেও বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। গত ৯ বছরে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে মাত্র তিনটি ম্যাচ জিততে পারায় এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াই এখন অনেকটাই একতরফা হয়ে পড়েছে।