নতুন ভূমিকায় নেইমার, আনচেলত্তির মাস্টারপ্ল্যান ফাঁস!

মাঠের বাইরে চোটের অন্তহীন ট্র্যাজেডি, ফর্ম নিয়ে হাজারো সংশয় আর তিন বছরের দীর্ঘ নির্বাসন,সব নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে সাম্বা জাদুকর নেইমার জুনিয়রের। গত এক দশক ধরে ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী চরিত্র হয়েও নামের পাশে একটা বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার ট্রফি জুটাতে পারেননি।

তবে সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই সুপারস্টার ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের শেষ ভাগ্যপরীক্ষা দিতে মারাকানার চেনা আঙিনা ছেড়ে উত্তর আমেরিকার উদ্দেশ্যে উড়াল দিচ্ছেন। নেইমারের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের মাঝে এতটাই আবেগঘন আবহ তৈরি করেছে, সামাজিক মাধ্যম এখন রীতিমতো তোলপাড়!

Carlo Ancelotti
দল ঘোষণার পর নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়। আবেগে আপ্লুত নেইমার বলেন, এই মুহূর্তে আবেগপ্রবণ না হওয়াটা সত্যিই কঠিন। এতগুলো দিন আমরা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি, মানুষ আমাকে যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছে, তা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। সব বাধা পেরিয়ে আজ আমি এখানে, আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায়,এটি অবিশ্বাস্য! আমার চোখের এই পানি শুধুই নিখাদ আনন্দের। আমি প্রতিটি ব্রাজিলিয়ানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা কঠিন সময়ে আমার পাশে ছিলেন এবং আমার জন্য প্রার্থনা করেছেন। আমাদের সামনে লড়াই করার জন্য আরও একটি বিশ্বকাপ অপেক্ষা করছে। দেশের মাটিতে ট্রফিটা ফিরিয়ে আনতে আমরা মাঠে আমাদের জীবন সঁপে দেব।

Neymar
আল হিলালে থাকার সময় একের পর এক চোট নেইমারের চিরচেনা সেই গতি কেড়ে নিলেও, তাঁর ফুটবল মস্তিষ্ক আর ড্রিবলিং জাদু যে কমেনি, তার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন সান্তোস এফসিতে ফিরে। নেইমারের এই শারীরিক ও পারফরম্যান্সের দুর্দান্ত উন্নতি দেখেই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে দলে নেওয়ার পুরস্কার দিয়েছেন। তবে দলে ফিরলেও শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়াটা নেইমারের জন্য মোটেও সহজ হবে না। কারণ, কার্লোর ডায়েরিতে এই মুহূর্তে মাতেউস কুনিয়া এবং লুকাস পাকেতা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

তবে রদ্রিগো এবং এস্তেভাওয়ের মতো দুই নিয়মিত উইঙ্গারের চোট ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে যে ধাক্কা দিয়েছে, তা সামাল দিতে নেইমারের অভিজ্ঞতা আনচেলত্তির জন্য এক মস্ত বড় ট্রাম্পকার্ড। মাঠের খেলার বাইরেও ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে একজন প্রকৃত নেতার যে অভাব দীর্ঘদিন ধরে ছিল, নেইমারের প্রত্যাবর্তনে সেলেসাওরা সেই হারানো ‘ড্রেসিংরুম লিডার’-কেও ফিরে পেল, যা বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ স্তরের টুর্নামেন্টে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ।

Neymer
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রণকৌশল নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনার অন্ত নেই। উইংয়ের দুই প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর রাফিনিয়ার গতি এবং আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে মাতেউস কুনিয়ার নিয়মিত উপস্থিতি ইতিমধ্যেই ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশের একটা পরিষ্কার ধারণা দিয়ে দিয়েছে। এই ছকে নেইমারের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই বড় এক কৌশলগত রহস্য ফাঁস করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, এই বিশ্বকাপে নেইমারকে প্রথাগত উইঙ্গার বা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে নয়, বরং ‘ইনসাইড ফরওয়ার্ড’ পজিশনে খেলানো হবে।

গতির চেয়ে ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং ভিশন আর রক্ষণভাগ চিরে থ্রু-বল দেয়ার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে নেইমারকে দিয়ে ব্রাজিলের দলগত আক্রমণকে আরও বেশি ধারালো ও নান্দনিক করে তুলতে চান আনচেলত্তি, যা কুনিয়া কিংবা পাকেতা কেউই ধারাবাহিকভাবে করতে পারেননি। তিন বছরের এই দীর্ঘ খরা কাটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে গোলখরা কাটানোর এবং নিজের ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ ছোঁয়ার এই শেষ সুযোগটি নেইমার কীভাবে কাজে লাগান, তা দেখতে এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে পুরো ফুটবল বিশ্ব!