বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার রাত একটায় লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই ফুটবল জায়ান্ট স্পেন ও বেলজিয়াম। শুরুর দিকে ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খেলেও নকআউট পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ‘রেড ডেভিলস’রা। তবে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করতে তাদের পেরোতে হবে টুর্নামেন্টজুড়ে দাপুটে ফুটবল খেলা এবং শিরোপার অন্যতম দাবিদার স্পেনের কঠিন বাধা।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ও বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছে। শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা লা রোহা এবারের বিশ্বকাপে এখনও কোনো গোল হজম করেনি। টানা ছয়টি ক্লিন শিটের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ডও গড়েছে তারা।
অন্যদিকে, শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও নকআউট পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ফিরেছে বেলজিয়াম। শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে রুডি গার্সিয়ার দল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১৩ গোল করা বেলজিয়াম আক্রমণভাগের দিক থেকে অন্যতম সফল দল।
তবে স্পেনকে স্পষ্ট ফেবারিট মানছেন বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া। তার ভাষায়, স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা বল দখলভিত্তিক দল এবং গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দলটি একই ধারায় খেলছে। তবুও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, আমরা জানি আমরা আন্ডারডগ। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, আমরা তাদের হারাতে পারি।
অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুও স্বীকার করেছেন, স্পেনকে হারাতে হলে বেলজিয়ামকে ‘নিখুঁত’ ম্যাচ খেলতে হবে। তবে ব্যক্তিগত নয়, দলের সাফল্যই তার একমাত্র লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, স্পেনের অপরাজিত ধারাও বেশ নজরকাড়া। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দলটি টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপের পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে নতুন রূপে গড়ে ওঠা স্পেন এখন আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে।
পরিসংখ্যানও স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সর্বশেষ ১১ দেখায় অপরাজিত স্পেন। এর মধ্যে শেষ পাঁচ ম্যাচেই তারা জিতেছে ১৩-১ গোলের ব্যবধানে। তবে বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ে ১৯৮৬ সালে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল বেলজিয়াম।
কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহারণে জয়ী দল সেমিফাইনালে উঠবে, যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আরেক ইউরোপীয় পরাশক্তি ফ্রান্স।