ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই আত্মবিশ্বাস টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতে কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩২ রানে হেরে সফর শুরু করেছে তাওহিদ হৃদয়ের দল।
বুধবার বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। জয়ের জন্য ১৭১ রানের লক্ষ্য পেলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৯ ওভারেই ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে আসে মাত্র ২৫ রান। ১৫ বলে ১২ রান করে সাইফ হাসান ফিরলে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৮ বলে ১৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও সেটিকে বড় করতে পারেননি।
এরপর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। চাপে পড়া দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ইয়াসির আলী রাব্বি। দীর্ঘদিন পর একাদশে সুযোগ পেয়ে ৩৮ বলে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। শেখ মেহেদি ১৮ বলে ১৯ রান করে কিছুটা সঙ্গ দিলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, নাসুম আহমেদদের ব্যর্থতায় ১৯ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।
এর আগে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান যোগ করার পর চতুর্থ ওভারে মারুমানিকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন নাহিদ রানা। মারুমানি ৯ বলে ১৪ রান করেন।
এরপর ডিয়ন মায়ার্স ২০ বলে ২০ রান করলেও ইনিংসের মূল দায়িত্ব পালন করেন ব্রায়ান বেনেট। ৩০ বলে ৪৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। মাঝের ওভারে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। আর শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্সের ১০ বলে অপরাজিত ১৯ ও বার্লের ২৫ বলে অপরাজিত ৩০ রানে ভর করে ১৭০ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ রানা। চার ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন এই গতিতারকা। দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। তবে রানার দুর্দান্ত বোলিংও শেষ পর্যন্ত হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।