খেলোয়াড়দের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই তালিকায় আরও ৫০০ জন খেলোয়াড়কে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ক্রীড়া কার্ডধারী ব্যক্তিদের সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণসংক্রান্ত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ক্রীড়া কার্ড খেলোয়াড়দের সামাজিক মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। আমাদের লক্ষ্য, এই কার্ডের মাধ্যমে খেলোয়ারেরা যেন অন্য মন্ত্রণালয় থেকেও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। চলতি অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ থেকেই নতুন করে যুক্ত হতে যাওয়া ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়মিত ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে।
কার্ড প্রদান প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনতে প্রতি চার মাস পর পর এই তালিকায় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
- ক্রীড়া কার্ড হলো বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের চালু করা একটি বিশেষ স্বীকৃতি ও আর্থিক সুরক্ষা কার্ড, যার মাধ্যমে দেশের জাতীয় স্তরের কৃতি খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।
- এই কার্ডধারক খেলোয়াড়েরা প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে সরকারি ক্রীড়া ভাতা পান, যা সরাসরি তাদের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
- কার্ড ও ভাতার সুবিধা স্থায়ী নয়; প্রতি চার মাস অন্তর খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্স বা ক্রীড়াশৈলী মূল্যায়ন করা হয়। পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে তালিকা থেকে বাদ পড়ার বা ভাতা স্থগিত হওয়ার নিয়ম রয়েছে।
- এই কার্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক মানের উন্নত প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, বিদেশি কোচের অধীনে প্রস্তুতি, এবং স্টেডিয়ামে বিশেষ যাতায়াত বা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
ফুটবল বা ক্রিকেটের বাইরে থাকা অন্য খেলাধুলার প্রসারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো অন্য খেলাধুলা সেভাবে প্রচার পায় না। ফলে ওই সব খেলায় যুক্ত অ্যাথলেটেরা প্রায়ই অবমূল্যায়নের শিকার হন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, অন্য খেলাধুলার খেলোয়াড়েরা যাতে অসুস্থ হলে সঠিক চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করা।
জাতীয় স্টেডিয়ামের দোকান বরাদ্দের অনিয়ম প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, স্টেডিয়ামের সামনের দোকানগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা তুললেও সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে, যাতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি বন্ধ হয়।
গত টি-টুয়োন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগত কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাননি—আমরা আগে তা জানিয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত আর না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে ক্রীড়ামন্ত্রণালয় সতর্ক থাকবে।
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক উপদেষ্টার বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে দুদক বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা যা যা তথ্য চাইছে, তার সবই মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দিচ্ছে দুদক। সত্যতা পেলে তারাই ব্যবস্থা নেবে।
আসিয়ান কাপ ফুটবল ও এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।