ভারতীয়দের চোকার বানালো কামিন্স, কীভাবে জানেন?

গেলো বছর ২২ নভেম্বর এই টুইটটা করেন প্যাট কামিন্স। ঠাসা শিডিউলে চাপ কমাতে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে নেন নিজেকে। লক্ষ্য একটাই দেশের জন্য ক্যাবিনেটে আরও আরও অনেক ট্রফি চাই। 

কমিন্স বলেন, পরের বছর আইপিএলে খেলবো না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন ছিল। আগামী এক বছর দেশের জার্সিতে প্রচুর টেস্ট এবং এক দিনের ম্যাচ রয়েছে। সেই কারণে অ্যাশেজ এবং বিশ্বকাপের আগে একটু বিশ্রাম নিতে চাই।

এ আবার কেমন বিশ্রাম কে জানে। ২২ নভেম্বর ২০২২ থেকে ১৯ নভেম্বর ২০২৩...এক বছর এই টাইমলাইনে সেই বিশ্রাম নিতে চাওয়া প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ইংলিশদের হারিয়ে ধরে রেখেছে মর্যাদার অ্যাশেজ আর লেটেস্ট এডিশন ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপের হেক্সা ট্রফি। সব জিতে কলারটা টেনে সবাইকে যেন বললেন বুঝলেন ফাস্ট বোলাররাও ভালো ক্যাপ্টেন হয়।

অথচ এই প্যাট কামিন্সের নেতৃত্ব, পারফর্ম্যান্স নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে কত সমালোচনাই না হলো। এমনকি দুই ম্যাচ হারের পর কথা উঠেছিলো তাকেও বাদ দেয়ার, কারণ খেলছেন না বরং কামিন্স নাকি লোক হাসাচ্ছেন। তিনি এসবে বিচলিত হননা, চাপ যত বেড়েছে চাপকে ততই তিনি চেপে ধরেছেন। ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের বলেছেন ‘আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে, বিশ্বকাপ জিততে হবে, আর সেটার জন্য অপেক্ষা করার সময় নাই’।

দলতো ঘুরে দাঁড়ালোই , নকআউটে কামিন্সও নিংড়ে দিলেন নিজের সবটা। সেমিফাইনালে নিয়েছেন ৫১ রানে ৩ উইকেট, ফাইনালে ৩৪ রানে ২ উইকেট। আর ক্যাপ্টেন্সিতে কত পাকা সেটা জানতে দেখতে হবে ফাইনাল ম্যাচটা। সুপারফর্মে থাকা ভারত যে এই মায়েস্ত্রোর মাস্টারস্ট্রোকেই গায়ে মাখলো চোকারের তকমা। কুড়ি বছর আগের সেই প্রতিশোধটা আর নেয়া হলো না।

মাঠ আর মাথার খেলায় সিদ্ধহস্ত আন্ডারেটেড এই ক্যাপ্টেন। ফাইনালের আগে ভারতীয়দের সঙ্গে সাইকোলজিক্যাল গেমে জিতেতেই কিনা কামিন্স বলে ফেললেন সবাইকে একসাথে চুপ করিয়ে দিতে চাই। বিশ্বকাপ জিতে অবশ্য স্বীকার করলেন চারিদিকে নীল উৎসবে তাকেও নার্ভাস করেছিলো খানিকটা।

কমিন্স বলেন, আমরা কী নার্ভাস ছিলাম না ? কিছুটা তো ছিলাম। সকাল থেকে উঠে যেদিকে তাকাচ্ছি দেখছি নীল জার্সি। টস করতে গিয়ে দেখি সবাই ভারতকে সাপোর্ট করছে। টেনশন তো হবেই।

এখানেই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অন্য দলগুলোর তফাৎ। টেনশন যেন আরোও বেশি তাতিয়ে দেয় অজিদের। ফুটবলে একটা কথা আছে ৯০ মিনিট বলের পেছনে ছোটে ২২ জন আর জেতে জার্মানি। ক্রিকেটাঙ্গনে সেটা বদলে হয়ে গেছে- টুর্নামেন্টে খেলে ১০ দল আর ট্রফি জেতে অস্ট্রেলিয়া। কারণ অজিরা তো খেলে না শুধু জেতে। অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার মতোই কাজ করে, এ আর এমনকি। 

অজিদের এই জয় যেন মিলে যায় ১৯৫০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালে ব্রাজিলের ওই হারের সঙ্গে। সেদিনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো দুই লাখ মানুষ। 

এক লাখ ৩০ হাজার সমর্থকের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামও স্তব্ধ হয়ে গেলো। কান পাতলে যেখানে ভেসে আসে শুধুই দীর্ঘশ্বাস। আজ থেকে বহু বছর পরেও হয়তো থাকবে এই একটা তারিখ ১৯ নভেম্বর, যেদিন এক সঙ্গে স্তব্ধ হয়েছিলো লাখো মানুষ।