যুক্তরাষ্ট্র সিরিজ হাতছাড়া, এবার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। মূল মঞ্চে নামার আগে টাইগাররা কি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত? টেক্সাসে সৌম্য-তানজিদের ব্যাটিং ডিসপ্লেতেও মেটেনি লিটন-শান্তদের অফফর্ম নিয়ে প্রশ্ন। পাশাপাশি পাওয়ার প্লে-তে উইকেট তোলা এবং বড় স্কোর করার দিক থেকে বাংলাদেশ অন্য দলগুলোর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে।
টেক্সাসের কাজ শেষ এবার ডালাসের উদ্দেশ্যে টিম বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সিরিজ হারের পর এক জয়কে সম্বল করে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্বে টাইগাররা। কিন্তু টপ অর্ডারে ব্যাটিং, পাওয়ার প্লে-তে কুইক রান জেনারেশন, ইম্প্যাক্টফুল বোলিং, পাওয়ার-প্লেতে প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়া, এক সিরিজে মেটানো গেছে কি সব সমস্যা? নাকি দুশ্চিন্তা বেড়েছে আরও?
কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং
প্রথম ম্যাচে ৭.৬৫, দ্বিতীয় ম্যাচে ৭.২০ আর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যাট করেছে ৯.২৫ রান রেটে। প্রথম দুই ম্যাচের রান রেট বলে দেয় মূল বোলিং লাইন আপের বিপরীতে টাইগার ব্যাটাররা কতটা খাবি খেয়েছে। অথচ বার্মিংহামে একইদিন মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড আর পাকিস্তান। যেখানে বাংলাদেশ দেড়শ করতেই হিমশিম খায় সেখানে ইংল্যান্ডের ১৮৩ রানের জবাবে পাকিস্তান বোর্ডে তোলে ১৬০ রান।
উইকেট-কন্ডিশন-প্রতিপক্ষ বিবেচনায় বাবর-বাটলারদের সাথে টাইগারদের হুবহু তুলনা করা অমূলক, তবে তুলনা করা যেতে পারে ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ আর ইনটেন্ডে। বড় স্কোর গড়ার মেন্টালিটিতে যেখানে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ।
ফর্মে ফেরার লড়াইয়ে টাইগারদের অবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন ম্যাচে দুই ধরনের ওপেনিং পেয়ার খেলায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে লিটন-সৌম্য, আর বাকি দুই ম্যাচে খেলেন তানজিদ-সৌম্য। শেষ ম্যাচে ওপেনাররা ম্যাচ জেতানোয় যেখানে মিলেছে স্বস্তি, ঠিক সেখানেই শান্ত-লিটনরা ব্যাট না করায় বোঝা যায় নি ওদের কি পরিস্থিতি। তাই ম্যাচ জিতলেও অফ ফর্মে থাকা ব্যাটারদের পরখ করতে না পারার আফসোসও আছে।
পাওয়ার প্লে-তে ধীর ব্যাটিং
টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় ওভার যেখানে ম্যাচের গতি পালটে দেয়, সেখানে বাংলাদেশ পাওয়ার প্লে-র ফায়দা তুলতে বারবার ব্যর্থ। যুক্তরাষ্ট্র সিরিজে পাওয়ার প্লেতে টাইগারদের গড় রান ৪৩, অথচ কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর সাউথ আফ্রিকা সিরিজই দেখুন। পাওয়ার প্লেতে ক্যারিবিয়িরা গড়ে ৫৮ আর সাউথ আফ্রিকা ৬৬ করে রান তুলছে। এতেই আভাস পাওয়া যায় বড় দলগুলোর তুলনায় কতটা পিছিয়ে টাইগাররা।
পাওয়ার প্লে-তে খরুচে বোলিং
একই অবস্থা বোলিংয়েও পাওয়ার প্লে-তে মূল দায়িত্বটা মূলত শরিফুল-তানজিমের। ৬ ওভারের ২ ওভারই বল করেন তারা। বাকি কোটা সাকিব, মোস্তাফিজ, শেখ মেহেদী বা তাসকিনদের দিয়ে পূরণ করা হয়। টি-টোয়েন্টিতে এই জায়গায় উইকেট তুলতে কিছুটা পিছিয়ে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে ৪৩, দ্বিতীয় ম্যাচে ৪২ আর তৃতীয় ম্যাচে ৪৬ রান দিলেও প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের দুটা প্রস্তুতি ম্যাচে অপেক্ষায় অনেক চ্যালেঞ্জ। ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্র আর পহেলা জুন ভারত ম্যাচে টাইগারদের ফিরতে হবে রাইট ট্র্যাকে।