লাহোরে শনিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে অধিনায়ক সালমান আলী আঘার বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং স্পিনারদের তোপে অস্ট্রেলিয়াকে ৯০ রানে বিধ্বস্ত করেছে পাকিস্তান। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপরাজিত লিড নিল স্বাগতিকরা।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে সালমান আলী আঘার ৪০ বলে ৭৬ রান এবং উসমান খানের ৩৬ বলে ৫৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
১৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ‘স্পিন পঞ্চকের’ তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা (১৫.৪ ওভারে)। পাকিস্তানের পাঁচ স্পিনার মিলেই তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার সবকটি (১০) উইকেট।
আবরার আহমেদ ১৪ রানে ৩টি এবং শাদাব খান ২৬ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রানের হিসেবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জয়, যা ২০১৮ সালে আবুধাবিতে পাওয়া ৬৬ রানের জয়কে ছাড়িয়ে গেছে।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সালমান আলী আঘা বলেন, এটি একটি নিখুঁত ম্যাচ ছিল। আমরা ব্যাটিং ভালো করেছি এবং বল হাতেও দারুণ ছিলাম। ফিল্ডিংও ছিল অসাধারণ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি জানান।
২০১৮ সালের পর এটি অসিদের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। বিশ্রাম শেষে এ ম্যাচে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মিচেল মার্শ ফিরলেও পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের জবাব তার দলের কাছে ছিল না। মার্শ নিজে ১৮ রান করে আবরারের শিকার হন। ক্যামেরুন গ্রিন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সায়েম আইয়ুবের (১১ বলে ২৩) সাথে মিলে পাওয়ার প্লেতে ৭২ রান তোলেন আঘা। আঘা তার ইনিংসে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন। বাবর আজম মাত্র ২ রানে আউট হলেও চতুর্থ উইকেটে উসমান খানের সাথে আঘার ৪৯ রানের জুটি পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায়। শেষ দিকে শাদাব খান (২৮*) ও উসমান খান মিলে ৩৯ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডকে ১৯৯-এ পৌঁছে দেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে জেভিয়ার বার্টলেট এবং ম্যাথিউ কুনেম্যান ছিলেন বেশ ব্যয়বহুল; তারা তাদের ৮ ওভারে ৯২ রান খরচ করেন। সিরিজের শেষ ম্যাচটি রোববার লাহোরেই অনুষ্ঠিত হবে।