দীর্ঘ এক সপ্তাহের টানটান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা শেষে অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে গত সোমবার রাতে বর্জনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পর আসরের দুই আয়োজক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার রাজনৈতিক কারণে কলম্বোর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তাদের দলকে মাঠে না নামার নির্দেশ দিয়েছিল। এই অচলাবস্থা নিরসনে গত রবিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বিসিবি প্রধান লাহোর সফর করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সরকারও পাকিস্তানের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায়। সবশেষে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধ এবং ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।
ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাট এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা মানসম্পন্ন একটি দলের বিপক্ষে লড়তে পেরে আনন্দিত। ভারতের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করেই তারা কলম্বোর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান গত দুই সপ্তাহ ধরে কলম্বোতে অবস্থান করায় তারা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হওয়া মানে আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি। প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন এবং পর্যটন খাত থেকে এই একটি ম্যাচ ঘিরেই কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্য আবর্তিত হয়। প্রবীণ সাংবাদিক প্রদীপ ম্যাগাজিন মনে করেন, শেষ পর্যন্ত সবার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে এবং আর্থিক দিকটি বিবেচনায় রেখেই এই সমঝোতা হয়েছে।
করাচি থেকে দিল্লি- সর্বত্রই ভক্তদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। করাচির ক্রিকেট ভক্ত কাফিল আহমেদ বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনা একেবারেই আলাদা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোর অনুভূতির কোনো তুলনা হয় না।" দুই দেশের মধ্যে ২০১২-১৩ সালের পর থেকে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরই এখন ভক্তদের একমাত্র ভরসা।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ক্রিকেটের প্রতি এই সদিচ্ছা প্রদর্শনের জন্য। বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা এই সফল সমঝোতার জন্য আইসিসি-র প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের লড়াই শেষে এখন মাঠের ক্রিকেটে ২২ গজের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।