পাল্লেকেলেতে ইংলিশ ঝড়, আর্চার-জ্যাকস তোপে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা

পাল্লেকেলেতে ইংলিশ ঝড়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা। জফরা আর্চার ও উইল জ্যাকসদের বোলিং তাণ্ডবে ঘরের মাঠেই লঙ্কানদের ইনিংসের সমাধি হয়েছে মাত্র ৯৫ রানে। ১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের এই দাপুটে জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছেন অফ-স্পিনার উইল জ্যাকস এবং পেসার জফরা আর্চার।

ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলঙ্কা ছিলো বেশ ফুরফুরে মেজাজে। শক্তিশালী ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ১৪৫ রানে আটকে রেখে বোলাররা কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন। টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকায় গ্যালারি ঠাসা দর্শকরাও জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু ব্যাটিং শুরু হতেই যেন পাল্টে গেল দৃশ্যপট।

পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে লঙ্কানরা। পাথুম নিশাঙ্কা দিয়ে শুরু, এরপর একে একে কুশল মেন্ডিস, পবন রত্নায়েকে, কামিলা মিশারা এবং কামিন্দু মেন্ডিস—সবাই সাজঘরে ফেরেন দৃষ্টিকটুভাবে। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩৪ রান তুলতেই নেই টপ-অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক দাসুন শানাকা ৩০ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও অন্যপ্রান্ত থেকে কোনো সাহায্য পাননি।

বল হাতে নায়ক ছিলেন উইল জ্যাকস। টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর তিনি জ্বলে উঠলেন অফ-ব্রেকে। নিয়েছেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন জফরা আর্চার, আদিল রশিদ ও লিয়াম ডসন। প্রত্যেকেই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

ম্যাচ শেষে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে উইল জ্যাকস বলেন, আমরা জানতাম ১৪৫ রান জেতার জন্য যথেষ্ট নয়, তাই আমাদের শুরু থেকেই উইকেট নিতে হতো। জফরা পাওয়ারপ্লেতে দারুণ শুরু এনে দিয়েছে। এই উইকেটে স্পিনারদের জন্য সাহায্য ছিল এবং আমরা বল জোরে ঘোরানোর চেষ্টা করেছি। পাওয়ারপ্লেতে বল করা আমার কাছে নতুন কিছু নয়, আমি এই দায়িত্বটা উপভোগ করি।

ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকার কণ্ঠে ছিল চরম হতাশা। বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকলেও ব্যাটসম্যানদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। শানাকা বলেন, এটি খুবই হতাশাজনক। আমাদের বোলাররা দারুণ কাজ করেছিল, ইংল্যান্ডকে অন্তত ২০ রান কম রানে আটকে দিয়েছিল তারা। আমি আশা করেছিলাম আমার ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলবে।

ইংল্যান্ডের বোলিংয়ের চেয়ে নিজেদের বাজে ব্যাটিংকেই হারের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন শানাকা। তার ভাষ্যমতে, ইংল্যান্ড যে খুব আহামরি বোলিং করেছে তা নয়, বরং আমরাই বাজে শট খেলেছি। উইকেট শুরুতে কিছুটা ধীরগতির হলেও ফ্লাডলাইটের নিচে ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম খেলাটা গভীরে নিয়ে যাওয়ার, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

টানা কয়েকটা ম্যাচে নিজেদের সেরা ছন্দে না থাকলেও জয়ে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ইংলিশ শিবির। জ্যাকসের মতে, প্রত্যাশার চাপে তারা কিছুটা আড়ষ্ট ছিলেন, কিন্তু বড় ম্যাচে সেই চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পেরেছেন।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার জন্য এই হার বড়ো এক সতর্কবার্তা। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে সামনের ম্যাচগুলোতে এই ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হবে শানাকাদের।