দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের ইতিহাসে ‘চোকার্স’ তকমাটি যেন এক অভিশপ্ত ছায়ার মতো লেগে আছে। কিন্তু এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রোটিয়া শিবিরের শরীরী ভাষা বলছে, অতীতের সেই ভূত আর তাদের তাড়া করতে পারবে না।
কোচ শুকরি কনরাডের একটি সপাট উত্তর যেন পুরো দলের মানসিকতাকে বদলে দিয়েছে। যখন তাকে অতীতের হৃদয়বিদারক পরাজয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলো, তিনি সহজ ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, আমি তখন সেখানে ছিলাম না। এবার নতুন কিছুর প্রত্যাশা নিয়েই আমরা মাঠে নামবো।
এই একটি বাক্যেই কনরাড বুঝিয়ে দিয়েছেন, অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে পড়ে থাকার সময় তাদের নেই। ২০১১ সালে ঢাকার সেই কোয়ার্টার ফাইনাল হোক কিংবা ২০১৫ বা ২০২৩-এর সেমিফাইনাল, সবই এখন শুধুই পরিসংখ্যান। এমনকি ২০২৪ সালের জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষতও তারা মুছে ফেলেছেন। কনরাড এবং তার দল বিশ্বাস করেন, পেশাদার খেলাধুলা কোনো মিথ বা অপয়া তত্ত্বে চলে না।
অধিনায়ক এইডেন মার্করামও কোচের সুরে সুর মিলিয়েছেন। সাত ম্যাচে অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে আসা এই দলটি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। মার্করামের মতে, অতীতের পরাজয় নিয়ে ড্রেসিংরুমে বসে থাকাটা কোনো বুদ্ধিমান মানুষের কাজ হতে পারে না। বরং তারা মনোযোগ দিচ্ছেন তাদের পরিকল্পনা এবং সামর্থ্যের ওপর। সামনের ম্যাচটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেভাবেই পরিকল্পনা হচ্ছে।
যদিও কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়াটা চ্যালেঞ্জিং, কারণ এই ভেন্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে কখনো টি-টোয়েন্টি খেলেনি। পিচও ব্যাটারদের সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেই প্রস্তুতির গুরুত্ব বুঝেই হয়তো ঐচ্ছিক অনুশীলনে হাজির ছিলেন কুইন্টন ডি ককের মতো তারকাও, যিনি সাধারণত এসব সেশনে থাকেন না।
দলের প্রবীণ খেলোয়াড় ডি কক বা ডেভিড মিলার অতীতে অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের সেই বিতর্কিত সেমির স্মৃতি তাদের সঙ্গী। কিন্তু আজকের দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পূর্ণ আলাদা। বোর্ডে এখন স্থিতিশীলতা এসেছে, আর তরুণ ক্রিকেটাররা কোনো মানসিক বোঝা ছাড়াই মাঠে নামছেন।
সব মিলিয়ে, বুধবার সন্ধ্যার এই মহারণে দক্ষিণ আফ্রিকা শুধু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই লড়ছে না, তারা লড়ছে নিজেদের ইতিহাসের বিরুদ্ধেও। কনরাড এবং মার্করামের এই ‘নতুন শুরু’র মন্ত্র যদি ইডেনের মাঠে সত্যি হয়, তবে হয়তো এবার ঘুচবে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ।
নিউজিল্যান্ড: টিম সাইফার্ট (উইকেটরক্ষক), ফিন অ্যালেন, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), কোল ম্যাককনকি/জ্যাকব ডাফি, জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন।
দক্ষিণ আফ্রিকা: কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), রায়ান রিকেলটন, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস, মার্কো জানসেন, করবিন বোশ, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ, লুঙ্গি এনগিডি।